হাঁস পালন হতে পারে উপার্জনের বড় মাধ্যম। হাঁস পালনের নিয়ম

ইরফান রানা
প্রকাশকাল (০১ নভেম্বর ২০১৬)

f
g+
t

নদীমাতৃক বাংলাদেশে জল সম্পদ ব্যবহার করে অর্থনীতিক সমৃদ্ধি অর্জন করার জন্য হাস পালন হতে পারে একটি বড় মাধ্যম। সারা দেশে মাংসের চাহিদা মেটানোর জন্য অনেক পোল্ট্রি ফার্ম রয়েছে। পোল্ট্রি ফার্মে অনেক বেশি রোগ হয় যাতে লোকসানের সম্ভাবনা অনেক বেশী। সেজন্য হাস হতে পারে বিকল্প। হাসের চাষ করে আমাদের দেশের অনেক মানুষ স্বাবলম্বী হয়েছেন। হাঁস চাষ করার সুবিধা অসুবিধাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ হিসাব তুলে ধরা হল।

হাঁস পালন হতে পারে উপার্জনের বড় মাধ্যম। হাঁস পালনের নিয়ম

ছবি ইরফান রানা

বর্তমান সময়ের কেনাকাটার বিচিত্র সব মাধ্যম

ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী হোন । ছাগল পালন পদ্ধতি

কেন হাস পালন করবেন:
১. হাসের মাংসের চাহিদা অনেক বেশী।
২. হাসের মাংসের ভাল দাম পাওয়া যায়।
৩. হাসের মাংস খেতে সুস্বাদু।
৪. হাসের মাংসে উন্নত মানের আমিষ পাওয়া যায়। হাস চাসের মাধ্যমে আমিষের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
৫. হাস দ্রুত বর্ধনশীল।
৬. হাসের বাজারজাতকরন পদ্ধতি সহজ।

হাসের জাত সংগ্রহ: নিকটবর্তী যে কোন হাস প্রজনন কেন্দ্র থেকে হাসের জাত সংগ্রহ করতে পারেন। অবশ্যই রোগ মুক্ত জাত সংগ্রহ করবেন। ২-৩ সপ্তাহের বাচ্ছা ক্রয় করুন। প্রতিটি বাচ্ছার সম্ভাব্য ক্রয় মূল্য ২০-৩০ টাকা।


বাসস্থান তৈরি: হাসের বাসস্থান তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারন হাসের অধিকাংশ রোগই হয়ে থাকে অপরিষ্কার বাসস্থান এবং ময়লাযুক্ত খাবারের জন্য। হাসের জন্য বাড়ীতে আলোময় জায়গায় ঘর নির্মাণ করা উত্তম। তাহলে রোগজীবাণু কম এবং হাসের বৃদ্ধি ভাল হয়। এতে বাসস্থান তৈরির খরচ কম লাগে। তাছারা সমন্বিত মাছ এবং হাস চাস পদ্ধতিতে পানির উপর ভাসমান বাসস্থান তৈরি করা অনেক কম খরচের এবং ঘন ঘন মেরামত করতে হয় না। ড্রামের ওপর মাচা তৈরি করে বড় আকারের বাসস্থান তৈরি করা যায়। এ ধরনের বাসস্থানে পর্যাপ্ত আলো বাতাস পাওয়া যায়। বন্যা পরিস্থিতিতেও কোন সমস্যা হয় না। ভাসমান বাসস্থানে হাসের বর্জ্য সরাসরি পানিতে চলে যায় তাই পরিষ্কার করা অনেক সহজ।

হাঁস পালন হতে পারে উপার্জনের বড় মাধ্যম। হাঁস পালনের নিয়ম

ছবি ইরফান রানা

হাসের খাবার: প্রাপ্ত বয়স্ক একটি হাসের জন্য দৈনিক গড়ে ১৭০ গ্রাম খাবার প্রয়োজন। এভাবে হাস ১৮ সপ্তাহে প্রাপ্ত বয়স্ক হয়। এক একটি হাস বছরে ২৫০-৩০০ টি ডিম দেয়।

হাসের খাবারের জন্য পোলট্রি খাবার, চালের গুড়া, ভুট্টা ভাঙ্গা, গমসহ প্রয়োজনীয় সুষম খাবার দিতে হয়। বাচ্চা অবস্থায় হাসকে বেশি খাবার দিতে হয়।


রোগজীবাণু: হাসের রোগজীবাণুর অন্যতম কারণ অপরিষ্কার এবং অপরিকল্পিত বাসস্থান। তাছারা হাসের ঘরে রাতের বেলায় আলোর ব্যবস্থা রাখা জরুরি। তাছারা হাসের বাসস্থান মাঝে মধ্যে জীবাণুনাশক দিয়ে জীবাণু মুক্ত করা দরকার।

এ সকল প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করলে হাসের রোগ কম হয়। তাছারা হাসের রোগ হলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া উচিত। তাছারা বিভিন্ন রোগের টিকা দেওয়া দরকার। এই সকল পদক্ষেপ নিলে হাসের রোগ সংক্রান্ত সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া যায়।


বাজারজাত: হাসের মাংসের বাড়তি চাহিদা থাকায় হাসের বাজারজাত খুব কষ্টকর নয়। হাস স্থানীয় পাইকারদের কাছে বিক্রি করা যায়। তাছারা পারা-প্রতিবেশি এবং বাজারে বিক্রি করা যায়। হাসের ডিমও এই পদ্ধতিতে বিক্রি করা যায়। বর্তমানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে হাসের বাজারজাত করা যায়।

হাঁস পালন হতে পারে উপার্জনের বড় মাধ্যম। হাঁস পালনের নিয়ম

ছবি ইরফান রানা

লাভ ক্ষতির সম্ভাব্য হিসাব:
১৫০ টি হাসের বাৎসরিক লাভ ক্ষতির হিসাব তুলে ধরা হল।
এককালীন খরচ
১. বাসস্থান তৈরি-২০,০০০ টাকা।
২. হাসের বাচ্চা কেনা-৪,৫০০ টাকা। প্রতিটা গড়ে ৩০ টাকা করে (১৫০*৩০=৪৫০০)
মোট এককালীন খরচ ২৪৫০০ টাকা।

নিয়মিত খরচ
হাসের খাবার-প্রতিদিন(১৫০ হাস*১৫০ গ্রাম=২২,৫০০গ্রাম=২২.৫ কেজি)
১ বছরে(২২.৫ কেজি*৩৬৫ দিন=৮২১২.৫ কেজি)
৩. মোট খাবার খরচ(৮২১২.৫ কেজি*২০ টাকা)= ১,৬৪,২৫০ টাকা
৪. চিকিৎসা ও আনুসাঙ্গিক খরচ-১০,০০০ টাকা।
মোট নিয়মিত খরচ ১,৭৪,২৫০ টাকা।
১৫০*৪=৬০০ টি হাসের মোট বাৎসরিক খরচ (২৪৫০০+১,৭৪,২৫০)=১,৯৮,৭৫০ টাকা।

বাৎসরিক আয়
হাসের বাচ্চা তিন মাস পর পর বিক্রি করা যায়। সেই হিসেবে বছরে চার বার বিক্রি করা যায়। তাহলে বছরে (১৫০*৪)=৬০০ টি হাস বিক্রি করা যায়। প্রতিটি হাসের মূল্য ৫০০ টাকা হলে
হাসের মোট বিক্রয় মূল্য (৬০০*৫০০)=৩,০০,০০০ টাকা।

মোট বাৎসরিক লাভ
হাসের মোট বিক্রয় মূল্য - হাসের মোট বাৎসরিক খরচ
(৩,০০,০০০ - ১,৯৮,৭৫০)=১,১২,৫০০ টাকা।
হাসের বাসস্থান নিয়মিত খরচ না হওয়ায় লাভের পরিমান বাড়তে পারে।

হাঁস পালন হতে পারে উপার্জনের বড় মাধ্যম। হাঁস পালনের নিয়ম

ছবি ইরফান রানা

ইরফান রানা-এর আরও প্রবন্ধ পড়ুন

* জেনে নিন আপনার অর্থ উপার্জনের সহজ উপায়

* ক্রিকেটের সর্বশেষ খবর সরাসরি দেখুন। লাইভ ক্রিকেট স্ট্রিমিং

* চট্টগ্রামের সবকটি জেলায় কয়টি উপজেলা ও পৌরসভা (মানচিত্র সহ)

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আরও প্রবন্ধ পড়ুন



বিজ্ঞাপন



© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত LearnArticle.com