খাবারের গুণাগুণ জেনে উপকারী এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত

সোহাগ আহমেদ
প্রকাশকাল (৩০ নভেম্বর ২০১৬)

f
g+
t

বেচে থাকার জন্য খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শধুমাত্র পেট ভরা কিংবা চোখের ক্ষুধা নিবারণের জন্য খাবার খাই না। খাবার শরীরের সকল প্রকার জৈবিক ক্রিয়ার চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে। আর এই খাবারই যদি মানসম্মত না হয় তাহলে নানা রকম অসুখ হওয়াটাই স্বাভাবিক। সে জন্য খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই খাবারের পুষ্টিগুণ যাচাই করা জরুরী। শুধুমাত্র মুখরোচক খাবার হলেই যাচাই না করে খাওয়া উচিত নয়। সুস্থ থাকার জন্য অবশ্যই সুস্থ খাবার প্রয়োজন।

খাবারের গুণাগুণ জেনে উপকারী এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত

ছবি সোহাগ আহমেদ

কনকনে শীত থেকে বাচার উপায় ও শীত কাল সংক্রান্ত পরামর্শ

স্বাস্থ্য ভালো রেখে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন গড়ুন

খাবার কি

মানুষের সকল মৌলিক চাহিদার মধ্যে খাদ্যের স্থান প্রথম। মানুষ ক্ষুধা নিবারণের জন্য খাদ্য গ্রহণ করে। প্রয়োজন অনুযায়ী মানুষের খাওয়া উচিত।

সুতরাং, খাবার বলতে বুঝায় বেঁচে থাকার জন্য এবং দেহ সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখার জন্য আমরা যা খেয়ে থাকি তাই। তবে আমরা খাবার হিসেবে যা গ্রহণ করব তা পরিমিত হতে হবে।

খাবারের গুরুত্ব

কিছু প্রয়োজনীয় খাবারের গুরুত্ব নিচে উল্লেখ করা হল।

১) প্রয়োজনীয় শক্তি পেতে : দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন রকম কাজ করার জন্য আমাদের প্রচুর শক্তির প্রয়োজন। আমরা যদি কিছু না করে শুধুমাত্র শুয়ে, বসে, হাঁটা চলা করে বেড়াই তাতেও আমাদের প্রচুর শক্তির প্রয়োজন। তাই আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ চলমান কাজ ও দৈনন্দিন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পেতে আমরা খাবার খেয়ে থাকি।

২) রোগ প্রতিরোধ করতে: নানা রোগের আক্রমণ থেকে আমাদের দেহকে রক্ষা করার জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকা দরকার। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আমরা খাবার খেয়ে থাকি।
৩) দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়রোধ করতে: আমাদের দেহের বৃদ্ধি ও দেহের ক্ষয়রোধ করার জন্য খাবারের প্রয়োজন।

খাবারের গুণাগুণ জেনে উপকারী এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত

ছবি সোহাগ আহমেদ

খাবারের পুষ্টিগুন:

পুষ্টি হলো জীবদেহের বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপাদান। আমরা খাদ্য থেকেই পুষ্টি পেয়ে থাকি। অনেকে মনে করে দামি খাবারের পুষ্টিমান বেশি। এ ধারণা ভুল। দামি অথবা কমদামি এসব খাদ্যেই পরিমিত পুষ্টিমান আছে।

কোনো খাদ্যের দাম এবং উৎস বিভিন্ন হলেও পুষ্টিমান একই হতে পারে। বয়স, কাজের ধরন,দেহের বৃদ্ধি ইত্যাদি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পুষ্টিযুক্ত খাদ্য নির্বাচন করতে হবে। সুষম খাদ্যে আমাদের দেহের প্রয়োজনীয় সকল উপাদান পরিমাণ মতো থাকে।

সুষম খাদ্যে আমিষ, শর্করা, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ লবণ প্রয়োজনীয় পরিমাণে থাকতে হবে। এখানে কিছু খাদ্যের পুষ্টিগুণ উল্লেখ করা হলো-আমিষ জাতীয় খাদ্য - ছোট মাছ, সামুদ্রিক মাছ, ডাল, শিমের বিচি, ইত্যাদি। শর্করা জাতীয় খাদ্য - চাল, আটা, আলু ইত্যাদি।

স্নেহ জাতীয় খাদ্য - ঘি, মাখন, বাদাম,সয়াবিন, সরিষার তেল ইত্যাদি। ভিটামিন সমৃদ্ধ শাক-সবজি ও ফল- সবুজ শাক-সবজি, পাকাও হলুদ ফল,আমড়া, আমলকী,কলা, পেয়ারা, বেল, কাঁঠাল, লেবু, টমেটো, মাছের তেল ইত্যাদি।

খনিজ লবণ সমৃদ্ধ শাক-সবজি - আপেল, মিষ্টি কুমড়া, গাজর, আতা, ফুলকপি,পেঁপে ইত্যাদি। তাই আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা এসব পুষ্টি গুণ দেখে করা উচিত । যাতে বিভিন্ন রকমের খাদ্য গ্রহণ করে আমরা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পেয়ে থাকি। এতে আমাদের শরীর সুস্থ থাকবে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাবার

আমরা খাবার হিসেবে যা খেয়ে থাকি তার মধ্যে সবগুলো খাবার আমাদের শরীরের জন্য উপকারী নয়। কিছু খাবার মুখরোচক বলে আমরা খেয়ে থাকি। কিন্তু সেগুলো শরীরের জন্য উপকারী নয়।

আমাদের দেহের গঠন, বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণের জন্য ডিম, দুধ, শিমের বিচি, মাংস, ডাল,ছোট মাছ ইত্যাদি খাওয়া প্রয়োজন। দেহকে সুস্থ রাখা ও বিভিন্ন রোগ যেমন রাতকানা, রক্তশূন্যতা, মুখে ঘা, শিশুর পায়ের হাড়বেঁকে যাওয়া, রিকেটস ইত্যাদি থেকে বাঁচার জন্য সবুজ শাক-সবজি, পাকা ও হলুদ ফল, লেবু,গাজর, আমলকি, মাছের তেল ইত্যাদি খাওয়া প্রয়োজন।

কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি আমরা ধান, গম, ভুট্টা, আলু,চিনি ইত্যাদি থেকে পেয়ে থাকি। দেহকে গরম রাখার জন্য দুধ, ঘি, মাখন, পনির, সয়াবিন তেল, সরিষার তেল, নারিকেল তেল ইত্যাদি প্রয়োজন। খাদ্য হজম এবং দেহে শোষণের জন্য পরিমানমতো নিরাপদ পানি পান করা প্রয়োজন।

খাবারের গুণাগুণ জেনে উপকারী এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত

ছবি সোহাগ আহমেদ

কি খাবেন

খাবার খাওয়ার সময় অবশ্যই খাবারের মান এবং শরীরের জন্য কতটুকু উপকারী সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অবশ্যই শাক সবজি থাকা জরুরি। কেননা শাক সবজি আঁশযুক্ত খাবার যা পরিপাক ক্রিয়ায় অনেক কার্যকরী।

বিশেষ করে আঁশযুক্ত খাবার খাদ্যনালীর ক্যান্সার প্রতিরোধেও কার্যকরী। তাছাড়া শাক সবজির পুষ্টিগুন সম্পর্কে সবারই জানা আছে। মাঝে মাঝে দানাযুক্ত খাবার খাওয়াও অত্যন্ত জরুরী। যেমন ছোলা, ভুট্টা, মটর ইত্যাদি। প্রতিদিন আমিষের পরিমাণও ঠিক রাখা দরকার।

তবে আমিষের ক্ষেত্রে প্রাণীজ আমিষ যেমন মাংস, ডিম ইত্যাদি অল্প পরিমাণে খাওয়া দরকার। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ডাল যেমন মসর ডাল, মুগডাল ইত্যাদি খাবার বেশি খাওয়া দরকার। কারন প্রাণীজ আমিষ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

ঠাণ্ডা খাবার ত্যাগ করুন এবং গরম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। ঠাণ্ডা খাবার শরীরে চর্বির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। তবে যা-ই খান না কেন খাবারের বিশুদ্ধতা নিয়ে সচেতন থাকা দরকার।

কি খাবেন না

আমরা প্রায়ই বাইরের খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে থাকি। রং, ঘ্রাণ ও স্বাদই এসব খাদ্য পছন্দের মূল কারণ। যেসব খাদ্যে কৃত্রিম রং মেশানো হয়, তার মধ্যে মরিচ, হলুদ, চাল,ডাল, মিষ্টি, মাছ, ফল,পানীয় ইত্যাদি।

যেসব রং ও দ্রব্যাদি মেশানো হয়,তার মধ্যে রয়েছে - কৃত্রিম রং, ইটের গুড়া, কাপড়ের রং ইত্যাদি। খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন থেকে শুরু করে খাদ্য তৈরি, খাদ্য সংরক্ষণ, ফল পাকানো ও বাজারজাতকরণ পর্যন্ত রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো হয়। খাদ্যে ক্যালসিয়াম কারবাইড, বিষাক্ত পাউডার, ফরমালিন ও স্যাকারিনের মতো রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো হচ্ছে।

এসবই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে মানুষের শরীরের নানা রকম ক্ষতি হয়। এদের মধ্যে লিভার ও কিডনি অকার্যকর হওয়া, অ্যাজমা হওয়া, শরীরের বৃদ্ধি কমে যাওয়া ও ক্যান্সার রোগ হওয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

তাই আমাদের জাঙ্ক ফুড জাতীয় কৃত্রিম খাদ্য যেমন - আলুর চিপস, বার্গার, ফিজা, ক্যান্ডি, কোমল পানীয়, কৃত্রিম বিভিন্ন ফলের রস, চকলেট, আইসক্রিম, ইত্যাদি খাওয়া উচিত নয়। এগুলো থেকে বিশেষ করে আমাদের শিশুদের খাওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে। তাদের ঘরোয়া খাবারের প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে।

খাবারের গুণাগুণ জেনে উপকারী এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত

ছবি সোহাগ আহমেদ

সোহাগ আহমেদ-এর আরও প্রবন্ধ পড়ুন

* সঠিক ক্যারিয়ার গঠনের উপায় । পেশা নির্বাচন

* সময়ের সদ্ব্যবহার করে নিজেকে গঠন করার এখনই সময়

* আর কত অপচয় করলে অপচয় রোধ করা যাবে

বিজ্ঞাপন

আরও প্রবন্ধ পড়ুন



বিজ্ঞাপন



© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত LearnArticle.com