কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনবদ্য সব কবিতা এবং রচনাবলী

Alal Mahmud
প্রকাশকাল (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)

f
g+
t

আমার পরাণ যাহা চায় তুমি তাই তাই গো, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর! বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। বাঙ্গালি জীবনের কথা, প্রেম, প্রণয়, ভালবাসা তথা প্রত্যেকটা বিষয় কাব্যিক ঢঙে ফুটিয়ে তুলেছেন তার অসংখ্য কবিতা, গান, গল্প এবং উপন্যাসের মাধ্যমে। বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদকে টিকিয়ে রাখার জন্য সারা জীবন চেষ্টা করে গিয়েছেন। বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ বিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরদ্ধে তিনি সবসময় সোচ্চার ছিলেন। বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ বিরোধী সবধরনের অপচেষ্টা প্রতিহত করেছেন তার লেখনীর মাধ্যমে। ১৯০৫ সালে যখন বাংলাকে ভেঙ্গে দেয়া হয়েছিল তখনও কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিবাদ করেছিলেন।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনবদ্য সব কবিতা এবং রচনাবলী

ছবি Alal Mahmud

সুকুমার রায় এর জীবনী, গল্প, কবিতা এবং রচনা সমগ্র

জীবনানন্দ দাসের সকল কবিতা, গল্প, রচনাবলী এবং জীবনী

বঙ্গবঙ্গের প্রতিবাদে কবি "আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি" সহ আরও অনেক গান কবিতা লিখেছেন। তার লেখনী বঙ্গবঙ্গ রদ আন্দোলনকে গতিশীল করেছিল যার ফলশ্রুতিতে ১৯১১ সালে দুই বাংলাকে আবার একত্রিত করা হয়েছিল। বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের পক্ষে তার এই শক্ত অবস্থান কবিকে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবির মর্যাদা দান করেছে। কোটি বাঙ্গালীর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তার অসাধারণ সব কর্মের মাধ্যমে।

কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ই মে পশ্চিম বঙ্গের রাজধানী কালকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তিনি কোন প্রাথাগত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেননি, গৃহ শিক্ষকের কাছেই পড়াশোনা করেছেন। তার কবি প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায় শিশু বয়স থেকেই। মাত্র আট বছর বয়স থেকেই কবি লেখালেখি শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় তাঁর "অভিলাষ" কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মাত্র ১৭ বছর বয়সে ইংল্যান্ড ভ্রমন করেন। তার জীবনে তিনি অসংখ্য বার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পারস্পারিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ভ্রমন করেছেন। কবি ১৮৮৩ সালে মৃণালিনী দেবির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কন্তু ১৯০২ সালে তাদের একসাথে পথচলা থেমে যায়। তারপর তিনি কলকাতার শান্তিনিকেতন ব্রহ্মচর্যাশ্রমে পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন।

১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলী কাব্য গ্রন্থের জন্য কবি এশিয়দের মধ্যে সর্বপ্রথম সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। ইংরেজিসহ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় গীতাঞ্জলী কাব্যগ্রন্থটি অনুদিত হয়। দীর্ঘ ছয় বছরের আন্দোলনের পর ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ আইন রদ করা হয়। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন। ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি সেই উপাধি ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ থাকুরের জীবনের শেষ ভাগে তিনি ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। ১৯৩৪ সালে ব্রিটিশ বিহার প্রদেশে একবার ভূমিধ্বসে শতাধিক মানুষ মারা যাওয়ায় মহাত্নাগান্ধী এই ঘটনাকে ঈশ্বরের রোষ বলেন। তখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটাকে অবৈজ্ঞানিক বলে দাবি করেছেন এবং তিনি এর তীব্র নিন্দা করেন।

রবীন্দ্রনাথ থাকুরের জীবনের শেষ চার বছর শারীরিক অসুস্থতার মধ্য দিয়েই কেটেছে। দীর্ঘকাল অসুস্থ থাকার পর কবি ১৯৪১ সালে জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতেই পরলোক গমন করেন। অসাধারান প্রতিভাধর বাংলাভাষার এই কবি চলে গেছেন ঠিকই কিন্তু তিনি অনন্তকাল ধরে বেচে থাকবেন বাঙ্গালীর গানে, কথায় এবং সুরে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা গানের জগতে একটা আলাদা ধারা প্রচলন করেছেন।

রবীন্দ্রনাথ থাকুরের অসংখ্য কবিতা ছোট গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও পত্রসাহিত্য, সংগীত ও নৃত্ততসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য এবং চিত্রকলা এখনো বাঙ্গালীর হৃদয়ে সারা জাগিয়ে যায়। রবিন্দ্রনাথের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে আছে কবিকাহিনী, বনফুল, ভগ্নহৃদয়, সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালি, কল্পনা, ক্ষণিকা, নৈবেদ্য, খেয়া, গীতাঞ্জলী, গীতিমালা, গীতালি, পলাতক, পূরবী, মহুয়া, পুনশ্চ, শেষ সপ্তক, পত্রপুট শ্যামলী, রোগশয্যা, জন্মদিনে, শেষলেখা ইত্যাদি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই ছিলেন বাঙ্গালি প্রথম সার্থক ছোটগল্পাকার। তৎকালীন সাধনা পত্রিকাতেই রবিন্দ্রনাথের সবচেয়ে বেশি সৃষ্টিশীল ছোটগল্পসমুহ প্রকাশিত হত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পের মধ্যে রয়েছে কঙ্কাল, নিশিতে, মনিহারা, ক্ষুদিত পাষাণ, স্ত্রীর পত্র, নষ্ট নীড়, কাবুলিওয়ালা, দেনাপাওনা, হৈমন্তী, মুসলমানির গল্প ইত্যাদি। রবীন্দ্রনাথের একাধিক ছোটগল্প অবলম্বনে চলচ্চিত্র, নাটক ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মিত হয়েছে। তাঁর গল্পের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রায়ণ হল সত্যজিৎ রায় পরিচালিত তিন কন্যা (মনিহারা, পোস্টমাস্টার ও সমাপ্তি অবলম্বনে) ও চারুলতা (নষ্টনীড় অবলম্বনে), তপন সিংহ পরিচালিত অতিথি, কাবুলিওয়ালা ও ক্ষুধিত পাষাণ, পূর্ণেন্দু পত্রী পরিচালিত স্ত্রীর পত্র ইত্যাদি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার এই দীর্ঘ সাহিত্য জীবনে মোট তেরোটি উপন্যাস রচনা করেছেন। তার উপন্যাসগুলো হল- বৌ-ঠাকুরাণীর হাট, রাজর্ষি, চোখের বালি, নৌকাডুবি, প্রজাপতির নির্বন্ধ, গোরা, ঘরে বাইরে, চতুরঙ্গ, যোগাযোগ, শেষের কবিতা, দুই বোন, মালঞ্চ ও চার অধ্যায়। তার এই সব উপন্যাসে তৎকালীন সমাজে বিধবাদের জীবন, পারিবারিক সমস্যা, সামাজিক সমস্যা এবং ব্রাম্ম ও হিন্দু সমাজের বিবাধের বিষয় চিত্রায়িত হয়েছিল।

তাছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অসংখ্য লেখা সমাজ সংস্করণের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল। তার লেখায় ফুলে উঠেছিল তার দার্শনিক প্রতিভা যা আজও সারা পৃথিবীর অনেক বাঙ্গালি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।

Alal Mahmud-এর আরও প্রবন্ধ পড়ুন

* পল্লি কবি জসীম উদ্দিনের কবিতা সমগ্র ও রচনাবলী

* মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলের ইতিহাস এবং পশ্চিমা রাজনীতি

* মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমেদের সকল কবিতা ও রচনাবলী

বিজ্ঞাপন

আরও প্রবন্ধ পড়ুন






© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত LearnArticle.com