জহির রায়হানের জীবনী, গল্প এবং উপন্যাস সমগ্র

আসমা আক্তার শান্তা
প্রকাশকাল (২৮ মে ২০১৭)

f
g+
t

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ঔপন্যাসিক ও গল্পকার জহির রায়হান ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট বর্তমান ফেনী জেলার অন্তর্গত মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর তিনি তার পরিবারের সাথে স্থানান্তরিত হন। তিনি ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে বিখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সুমিতা দেবী এবং সুচন্দাকে বিয়ে করেন। বিখ্যাত ঔপন্যাসিক জহির রায়হান বাংলা সাহিত্যকে তার অসাধারণ গল্প, কবিতা, উপন্যাস এবং বিভিন্ন উক্তি দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন।

জহির রায়হানের জীবনী, গল্প এবং উপন্যাস সমগ্র

ছবি আসমা আক্তার শান্তা

মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমেদের সকল কবিতা ও রচনাবলী

পল্লি কবি জসীম উদ্দিনের কবিতা সমগ্র ও রচনাবলী

গল্পকার জহির রায়হানের সাহিত্যিক ও সাংবাদিক জীবন শুরু হয় ১৯৫০ সালে। তিনি প্রথমে যুগের আলো পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন। এরপর তিনি যান্ত্রিক, খাপছাড়া ও সিনেমা ইত্যাদি পত্রিকাতে ও কাজ করেন। ১৯৫৫ সালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়। আর চলচ্চিত্র জগতে তার পদার্পণ ঘটে ১৯৫৭ সালে জাগো হুয়া সাবেরা ছবিতে সহকারী হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে।

১৯৬০ সালে জহির রায়হানের প্রথম উপন্যাস শেষ বিকেলের মেয়ে প্রকাশিত হয়। ১৯৬১ সালে তিনি রুপালি জগতে পরিচালক হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেন। ঔপন্যাসিক জহির রায়হান ভাষা আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তার ছাপ দেখা যায় বিখ্যাত চলচ্চিত্র "জীবন থেকে নেয়া" তে। তিনি ১৯৬৯ সালের গণ অভুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে জহির রায়হান কলকাতায় চলে যান এবং সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারাভিযান ও তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান অর্থনৈতিক কষ্ট থাকা সত্ত্বেও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হতে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ তিনি মুক্তিযোদ্ধা তহবিলে দান করে দেন।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রবাদ পুরুষ জহির রায়হানের পরিবারে উল্লেখযোগ্য সদস্যদের মধ্যে প্রথম স্ত্রী সুমিতা দেবী ও তার দুই ছেলে বিপুল ও অনল রায়হান এবং দ্বিতীয় স্ত্রী সুচন্দা ও তার ছেলে তপু রায়হান। এছাড়া তার ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে শমী কায়সার।

ঔপন্যাসিক জহির রায়হানের প্রথম উপন্যাস শেষ বিকেলের মেয়ে। আবহমান বাংলার গ্রামীণ জীবনের পটভূমিতে রচিত আখ্যান জহির রায়হান হাজার বছর ধরে। বায়ান্নর রক্তস্নাত ভাষা - আন্দোলনের পটভূমিতে কথামালা জহির রায়হান আরেক ফাল্গুন। অর্থনৈতিক কারণে বিপর্যস্ত ক্ষয়িষ্ণু মধ্যবিত্ত পরিবারের অসহায়ত্ব গাঁথা জহির রায়হান বরফ গলা নদী।

এছাড়া গল্পকার জহির রায়হানের উল্লেখযোগ্য গল্পের মধ্যে সূর্যগ্রহণ, সময়ের প্রয়োজনে, সোনার হরিণ, একটি জিজ্ঞাসা, হারানো বলয়, ইচ্ছা অনিচ্ছা, দেমাক, কয়েকটি সংলাপ, একুশের গল্প ইত্যাদি।
জহির রায়হানের কবিতা ওদের জানিয়ে দাও। ,জহির রায়হান রচনাবলী - ১ম খন্ড, জহির রায়হান রচনাবলী - ২য় খন্ড।

বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হানের উল্লেখযোগ্য ছবি কখনো আসেনি, সোনার কাজল, কাচের দেয়াল, সংগম, বাহানা, বেহুলা, আনোয়ারা, জীবন থেকে নেয়া, টাকা আনা পাই, স্টপ জেনোসাইড, বার্থ অব দা নেশন, চিলড্রেন অব বাংলাদেশ, হাজার বছর ধরে ইত্যাদি।

ঔপন্যাসিক জহির রায়হান ১৯৬৪ সালে হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য আদমজী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। আর শ্রেষ্ঠ বাংলা ছবি কাচের দেয়াল ছবির জন্য নিগার পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া জহির রায়হান তার বিভিন্ন সৃষ্টিকর্মের জন্য বাংলা একাডেমী, একুশে পদক ও পুরষ্কার লাভ করেন।

গল্পকার জহির রায়হান দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭১ এর ১৭ ডিসেম্বর ঢাকা ফিরে আসেন এবং তার নিখোঁজ ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারের খোঁজ শুরু করেন, যিনি স্বাধীনতার ঠিক আগ মুহূর্তে পাকিস্তানী আর্মির এদেশীয় দোসর আল বদর বাহিনী কর্তৃক অপহৃত হয়েছিলেন। জহির রায়হান ভাইয়ের সন্ধানে মীরপুরে যান এবং সেখান থেকে আর ফিরে আসেন নি।

১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারির পর তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায় নি। প্রমাণ পাওয়া গেছে সেদিন মীরপুরে বিহারী অধ্যুষিত এলাকায় বিহারীরা ও ছদ্মবেশী পাকিস্তানী সৈন্যরা বাংলাদেশীদের ওপর গুলি চালালে তিনি নিহত হন। সেদিন গল্পকার জহির রায়হান নিহত হলেও আজও তিনি তার কর্ম দিয়ে লাখো কোটি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন এবং থাকবেন।

আসমা আক্তার শান্তা-এর আরও প্রবন্ধ পড়ুন

* খুব সহজে জেনে নিন কোন খাবারে কোন ভিটামিন আছে

* বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী, কবিতা এবং গ্রন্থসমূহ

* স্বাস্থ্যকর ভেজিটেবল বিরিয়ানি রান্নার সহজ রেসিপি

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আরও প্রবন্ধ পড়ুন



বিজ্ঞাপন



© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত LearnArticle.com