জীবনানন্দ দাসের সকল কবিতা, গল্প, রচনাবলী এবং জীবনী

আসমা আক্তার শান্তা
প্রকাশকাল (১১ জুন ২০১৭)

f
g+
t

বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক এবং অধ্যাপক হিসেবে যার নামটি সবার মনে পড়ে তিনি আর কেউ নন বাংলা ভাষার শুদ্ধতম কবি জীবনানন্দ দাশ। জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ১৭ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সত্যানন্দ দাশগুপ্ত ছিলেন বরিশাল ব্রজমোহন স্কুলের শিক্ষক, প্রাবন্ধিক, বরিশাল ব্রাহ্ম সমাজের সম্পাদক। জীবনানন্দের মাতা কুসুমকুমারী দাশ গৃহিণী হলেও তিনি কবিতা লিখতেন। তার সুপরিচিত কবিতা আদর্শ ছেলে শিশু শ্রেণির পাঠ্য। জীবনানন্দ পিতামাতার জৈষ্ঠ্য সন্তান, তার ডাক নাম মিলু। তার ভাই অশোকনন্দ দাশ এবং বোন সুচরিতা দাশ। ছোটবেলায় জীবনানন্দ লাজুক স্বভাবের হলেও তার খেলাধুলা, বাগান করা, ভ্রমণ ও সাঁতারের অভ্যাস ছিল। জন্মসূত্রে তার পদবী দাশগুপ্ত হলেও তিরিশের দশকের শুরুতে জীবনানন্দ গুপ্ত বর্জন করে শুধু দাশ লিখেন।

জীবনানন্দ দাসের  সকল কবিতা, গল্প, রচনাবলী এবং জীবনী

ছবি আসমা আক্তার শান্তা

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনবদ্য সব কবিতা এবং রচনাবলী

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী, কবিতা এবং গ্রন্থসমূহ

১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে জানুয়ারিতে জীবনানন্দকে ব্রজমোহন বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে ভর্তি করানো হয়। বিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় রচনার সূচনা হয়। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে ব্রজমোহন বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকিউলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। দু'বছর পর ব্রজমোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।

১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি আইন পড়া শুরু করেন, কিন্তু অচিরেই তা পরিত্যাগ করেন।


জীবনানন্দ দাশ ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ৯ ই মে ঢাকার ব্রাহ্মসমাজ মন্দিরে রোহিণী কুমার গুপ্তের কন্যা লাবণ্য গুপ্তকে বিয়ে করেন। তার কন্যা মঞ্জুশ্রী দাশ এবং পুত্র সমরানন্দ দাশ।

সম্ভবত মা কুসুমকুমারী দাশের প্রভাবেই ছেলেবেলায় পদ্য লিখতে শুরু করেন জীবনানন্দ দাশ। ১৯১৯ সালে তার লেখা প্রথম কবিতা বর্ষা আবাহন ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। জীবদ্দশায় তার ৭ টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়।

প্রথম প্রকাশিত ঝরাপালক শীর্ষক কাব্যগ্রন্থে তার প্রকৃত কবিত্বশক্তি ফুটে ওঠেনি, বরং এতে কবি কাজী নজরুল ইসলাম, মোহিত লাল মজুমদার ও সত্যেন্দনাথ দত্তের প্রকট প্রভাব প্রত্যক্ষ হয়। তবে দ্রুত তিনি স্বকীয়তা অর্জন করেছিলেন।

দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে প্রকাশিত দ্বিতীয় কাব্য সংকলন ধূসর পান্ডুলিপিতে তার স্বকীয় কাব্য কৌশল পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। কবি জীবনানন্দ তার রচনার কড়া সমালোচক ছিলেন। তাই সাড়ে আটশত কবিতার বেশি কবিতা লিখলেও তিনি জীবদ্দশায় মাত্র ২৬২ টি কবিতা বিভিন্ন পত্র- পত্রিকায় ও কাব্য সংকলনে প্রকাশ করতে দিয়েছিলেন।

জীবদ্দশায় তার একমাত্র পরিচয় ছিল কবি। অর্থের প্রয়োজনে তিনি কিছু প্রবন্ধ লিখেছিলেন ও প্রকাশ করেছিলেন। তবে নিভৃতে গল্প এবং উপন্যাস লিখেছিলেন প্রচুর যার একটি ও প্রকাশের ব্যবস্থা নেননি। এছাড়া ষাট- পঁয়ষট্টিরও বেশি খাতায় "লিটারেরী নোটস " লিখেছিলেন যার অধিকাংশ এখনও প্রকাশিত হয় নি।

জীবদ্দশায় কথাসাহিত্যিক হিসাবে জীবনানন্দের কোনো পরিচিতি ছিল না। ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ অবধি প্রকাশিত তার রচিত উপন্যাসের সংখ্যা ২১ এবং ছোটগল্পের সংখ্যা শতাধিক। তার মৃত্যুর পর উপন্যাস - গল্পের পান্ডুলিপির খাতাগুলো আবিষ্কৃত হয়। কবিতায় যেমনি, কথাসাহিত্যে তেমনি পূর্বাসুরীদের থেকে আলাদা ছিলেন সাহিত্যিক জীবনানন্দ দাস।

জীবনানন্দ দাশ প্রাবন্ধিক হিসেবেও পরিচিত ছিল না। তার জীবদ্দশায় বিভিন্ন পত্র- পত্রিকায় পনেরোটি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছিল। এছাড়া সাহিত্য - সমাজ - শিক্ষা বিষয়ক রচনার সংখ্যা ৩০,গ্রন্থ ভুমিকা ও গ্রন্থালোচনা জাতীয় রচনার সংখ্যা ৯, স্মৃতিতর্পণ মূলক রচনার সংখ্যা ৩ এবং বিবিধ প্রবন্ধ নিবন্ধের সংখ্যা ৭। তদুপরি আরো ৭ টি খসড়া প্রবন্ধের হদিস করা গেছে।

জীবনানন্দ জীবদ্দশায় অসাধারণ কবি হিসেবে খ্যাতি না পেলেও মৃত্যুর পরেই কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলা ভাষায় আধুনিক কবিতার পথিকৃতদের একজন হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। কবি জীবনানন্দ দাসের জীবন এবং কবিতার উপর প্রচুর গ্রন্থ লেখা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে।

এছাড়া ইংরেজি, ফারসি ও ইউরোপীয় ভাষায় তার কবিতা অনূদিত হয়েছে। কবি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরা পালক প্রকাশিত হয় ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে, ১৯৩৬ সালে দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ধূসর পান্ডুলিপি প্রকাশিত হয়।

১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে জীবনানন্দ দাশ বনলতা সেন প্রকাশিত হয়। এটি কবিতা ভবন সংস্করণ নামে অভিহিত। এরপর মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা প্রকাশিত হয়।

কবির মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত হয় রূপসী বাংলা, সুদর্শনা, বেলা অবেলা কালবেলা, আলো পৃথিবী, হে প্রেম তোমার কথা ভেবে এবং আবছায়া। এছাড়া ২০০১ সালে প্রকাশিত হয় জীবনানন্দ দাশের কবিতা সমগ্র। তাছাড়া কবি জীবনানন্দের ১৪ টি উপন্যাস, বেশ কিছু প্রবন্ধ ও নিবন্ধ, ১০১ টি চিঠির সংকলন জীবনানন্দের চিঠিপত্র, ৫৬ টি লিটারেরী নোটস প্রকাশিত হয়।

কবি জীবনানন্দ দাশ তার অসাধারণ উক্তি, প্রেমের কবিতা ইত্যাদি দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন। তার বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থটি শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হিসেবে পুরষ্কার পায়। কবির মৃত্যুর পর ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে ফেব্রুয়ারি মাসে জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা সাহিত্য একাডেমী পুরষ্কার লাভ করে।

গীতিকার, সাহিত্যিক, কবি জীবনানন্দ দাস ১৪ অক্টোবর ১৯৫৪ সালে কলকাতার বালিগঞ্জে এক ট্রাম দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত কবিকে শম্ভুনাথ পন্ডিত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু কবির অবস্থা ক্রমশ জটিল হতে থাকে। অবশেষে ২২ অক্টোবর, ১৯৫৪ তারিখ রাত ১১.৩৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। তবে কেউ কেউ ধারণা করেছেন আত্নহত্যার স্পৃহা ছিল দূর্ঘটনার মূল কারন।

আসমা আক্তার শান্তা-এর আরও প্রবন্ধ পড়ুন

* আমাদের জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নানা মুখী ব্যবহার

* সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং সৌন্দর্য বজায় রাখার উপায়

* স্বাস্থ্যকর ভেজিটেবল বিরিয়ানি রান্নার সহজ রেসিপি

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আরও প্রবন্ধ পড়ুন



বিজ্ঞাপন



© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত LearnArticle.com