শরীর ভালো রাখার উপায় হিসেবে কায়িক শ্রমের গুরুত্ব

আসমা আক্তার শান্তা
প্রকাশকাল (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)

f
g+
t

প্রবাদ আছে- স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। শরীর ভাল না থাকলে কোনো কাজে মন বসে না। পৃথিবীতে সবকিছু অর্থহীন মনে হয় যদি শরীর ভাল না থাকে। আর এই শরীর ভাল রাখতে হলে শুধু শুয়ে বসে খেলে হবে না কিছু পরিশ্রম করতে হবে। আমরা প্রতিদিন যতবেশি হাঁটাচলা করব ততই আমাদের শরীর সুস্থ এবং স্বাভাবিক থাকবে। সেজন্য সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করার জন্য নিয়মিত কায়িক শ্রম করতে হবে এবং কায়িক শ্রমের গুরুত্ব সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে হবে।

শরীর ভালো রাখার উপায় হিসেবে কায়িক শ্রমের গুরুত্ব

ছবি আসমা আক্তার শান্তা

বাঙ্গালীর বিনোদনের একাল সেকাল

বাংলাদেশের মানুষের শীতকালীন জীবন-যাত্রা । শীতের সকাল

কায়িক শ্রম

কায়িক শ্রম মানে শারীরিক শ্রম। আমরা কাজ করতে শারীরিকভাবে যে শ্রম দিয়ে থাকি তাকে কায়িক শ্রম বলে। আমাদের সমাজে কায়িক শ্রমের কোন মূল্যায়ন নেই। সবাই তাদের সমাজে নিচু স্তরের মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করে। অথচ তাদের পরিশ্রমের ফলে ধনীরা সুখে জীবন -যাপন করছে। আমরা যারা মানসিক শ্রমের শ্রমিক তারা কায়িক শ্রমের শ্রমিকদের অবদানে বেঁচে আছি। তাদের শ্রমকে অবমূল্যায়ন করার উপায় নেই। এজন্য আমাদের শ্রমের মর্যাদা সম্পকে সচেতন হতে হবে এবং অন্যকে সচেতন করতে হবে।

কায়িক শ্রমের গুরুত্ব

বর্তমানে আমরা যারা একটু সচ্ছল পরিবারে আছি তাদের মনোভাব এমন হয়ে গেছে যে তারা নিজেদের কাজ নিজেরা করতে পারবে না। কাজ করার জন্য কাজের লোক লাগবে। ছাত্র-ছাত্রীদের মনোভাব এমন হয়ে গেছে যে তাদের কাজ স্কুলে যাওয়া, কোচিং করা, এছাড়া তাদের আর কোন কাজ নেই।

তারা নিজেদের কাজগুলো নিজেরা করে না মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। মায়েদের চিন্তা ভাবনা হল আমার ছেলেমেয়েদের কাজ করার কি দরকার আমি তো করছি। ফলে তারা বাস্তবতার যখন সম্মুখীন হই তখন তারা বিপদে পড়ে। বড় লোকদের কথা তো আলাদা। তাদের কখন দিন হই, কখন রাত হই তারা নিজেরাও জানে না।

কিন্ত আমরা নিজেরা ভাল থাকার জন্য কায়িক শ্রমের কোন বিকল্প নেই। পরিশ্রম করলে আমাদের শরীর ভাল থাকে, স্বাস্থ্য ঠিক থাকে, শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের নাড়াচাড়া হই, হজম শক্তি বৃদ্ধি পাই। কায়িক শ্রমের মাধ্যমে মানুষ অনেক অসুখ বিসুখ থেকে রক্ষা পাই।

বর্তমানে যে হারে মানুষ অসুস্থ হচ্ছে তার প্রধান কারন হচ্ছে আমরা সবকিছু তৈরি করা পেতে চাই নিজেরা কষ্ট করতে চাই না। কিন্ত আমরা যদি একটু পরিশ্রম করি তাহলে আমরা ভাল থাকব এবং অসুখ থেকে নিজেরা কষ্ট কম পাব।

তাছাড়া একটু পরিশ্রম করলে কাজগুলো নিজের মতো করে করা যায় এবং সংসারের উন্নতি হয়। সংসার সুন্দরভাবে পরিচালনা করা যায়। সংসারের মানুষগুলো সুশৃঙ্খল জীবন যাপনে অভ্যস্ত হবে।

শারীরিক সুস্থতায় কায়িক শ্রম

শরীর সুস্থ রাখতে কায়িক শ্রমের ভূমিকা অপরিসীম। আমরা কায়িক শ্রমে অভ্যস্ত হওয়ার জন্য আমাদের স্বাস্থ্যবিধির নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে। যেমন -

১) সুষমখাদ্য খেতে হবে।
২) নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।
৩) দৈনিক ( ৬ - ৮) ঘন্টা ঘুমাতে হবে।
৪) পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।
৫) নিরাপদ পানি পান করতে হবে ইত্যাদি।

আমরা স্বাস্থ্যবিধির এসব নিয়ম মেনে চললে স্বাভাবিকভাবে আমরা কায়িক পরিশ্রম করতে পারব। বর্তমানে ডাক্তাররা অনেক রোগীকে ডায়েট করতে বলেন, সকাল- বিকাল হাঁটতে বলেন, পানি বেশি খেতে বলেন। আমরা যদি কায়িক পরিশ্রমে নিজেদের অভ্যস্ত করি তাহলে আমাদের স্বাস্থ্য এমনিতে স্বাভাবিক থাকবে, হাঁটতে হবে না শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নাড়াচাড়া হয় কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে।

হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় বলে ঘন ঘন খেতে ইচ্ছা করে। আমরা ছোট খাট অনেক অসুখ বিসুখ থেকে রক্ষা পায়। পরিশ্রম করলে শরীরে ব্যথা কম হয়। মোট কথা, কায়িক পরিশ্রম আমাদের শরীর ভাল রাখে এবং যাবতীয় ছোট খাট অসুখ বিসুখ থেকে রক্ষা করে।

পরিশেষে বলতে পারি, পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। পরিশ্রম করলে স্বাস্থ্য ঠিক থাকে এবং সুন্দরভাবে জীবন যাপন করা যায়। আসুন কায়িক শ্রমের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হই এবং সুস্থভাবে জীবন যাপন করি।

আসমা আক্তার শান্তা-এর আরও প্রবন্ধ পড়ুন

* জেনে নিন চাইনিজ চিকেন ফ্রাই তৈরীর নিয়ম । চিকেন ফ্রাই রেসিপি

* ক্যারামেল পুডিং বানানোর সহজ রেসিপি | পুডিং তৈরির পদ্ধতি

* কম পুঁজিতে লাভজনক ক্ষুদ্র ব্যবসার কিছু উপকারী আইডিয়া

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আরও প্রবন্ধ পড়ুন



বিজ্ঞাপন



© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত LearnArticle.com