কনকনে শীত থেকে বাচার উপায় ও শীত কাল সংক্রান্ত পরামর্শ

আসমা আক্তার শান্তা
প্রকাশকাল (০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)

f
g+
t

সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং সৌন্দর্য বজায় রাখার উপায়

বাংলাদেশে ছয়টি ঋতুর মধ্যে শীত অন্যতম প্রধান ও প্রিয় ঋতু। শীতের অনেকগুলো সুবিধা থাকলেও এর প্রতিকূল আবহাওয়া মানুষের জন্য ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়ায়। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ত্বকের সুরক্ষার জন্য নানা রকম প্রসাধনী সামগ্রী এবং গরম পোশাক কেনা শুরু করি। তার উপর নানা ধরনের রোগ জীবাণুত আছেই। শীতের প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করে শীতকে উপভোগ্য করে তোলার জন্য কিছু টিপস যা জেনে রাখলে কাজে লাগবে বলে আশা করি। নিম্নে টিপসসমূহ উপস্থাপন করা হল-

কনকনে শীত থেকে বাচার উপায় ও শীত কাল সংক্রান্ত পরামর্শ

ছবি আসমা আক্তার শান্তা

শীতকালীন খাবার দাবার

শীতে খাবার দাবার যদিও খুব সুস্বাদু কিন্তু খাবারের বেলায় একটু সর্তকতা অবলম্বন করতে হয়। শীতকালে যেকোনো খাবার গরম করে খেতে হয়। অন্যথায় অসুখ বিসুখ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ সময় মাছ মাংসের চেয়ে সবজিটা বেশি খাওয়া প্রয়োজন।

কারন এ সময় মৌসুমি সবজি যেমন লালশাক, পালং শাক, মূলা শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, নতুন আলু, শিম, শিমের বিচি ইত্যাদি পাওয়া যায়। শীতকালে দিনের বেলায় পানি বেশি এবং রাতের বেলায় কম পান করতে হয়। যাদের ঠান্ডার সমস্যা আছে তারা কুসুম কুসুম গরম পানি পান করতে হবে। শীতকালে টাটকা ফলমূল বেশি করে খেতে হবে। তাহলে স্বাস্থ্য সুন্দর ও ভাল থাকবে।

শীতের পোশাক

শীতকালে সবার গরম পোশাক যেমন - সুয়েটার, শাল, জ্যাকেট ইত্যাদি পরিধান করা উচিত। যারা বয়স্ক ও শিশু তাদের মোজা পরা উচিত। বাইরে বের হলে বাইরের ধুলাবালি যাতে নাকে ঢুকতে না পারে তার জন্য মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।

এতে করে হাঁচি, সর্দিকাশি ইত্যাদি কম হবে। শীতের নিত্য ব্যবহার্য কাপড়গুলো প্রতিদিন সাবান দিয়ে ধুতে হবে। কারন শীতকালে বাইরে ধুলাবালি বেশি থাকে। এতে করে কাপড় চোপড় ময়লা বেশি হয়। শীতকালে ঘুমানোর জন্য আমরা লেপ, তোষক, কম্বল যেগুলো ব্যবহার করি তা কিছুদিন পর পর রোদে দিতে হবে। এতে করে খোজপাঁচড়া জনিত রোগ কম হবে।

শীতের প্রসাধনী

শীতকালে ত্বকের যত্ন বছরে যেকোনো সময়ের চেয়ে একটু বেশি করতে হয়। কারন এ সময় হাত-পা ফেটে যায়, ত্বক শুষ্ক থাকে, চুলে খুশকি বেশি হয়।

তাই শীতকালে আমাদেরকে প্রসাধনি হিসেবে বিভিন্ন কোল্ড ক্রিম, বডি লোশন, ফেইস ওয়াশ, সানব্লক, লিপজেল, গ্লিসারিন, গোলাপজল ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। আমরা মুখে বিভিন্ন কোল্ড ক্রিম, রোদ থেকে ত্বককে বাঁচাতে সানব্লক ব্যবহার করব।

শরীরের জন্য বডি লোশন এবং হাত-পা না ফাটার জন্য গ্লিসারিন ব্যবহার করতে হবে। ঠোঁটের সুরক্ষায় গোলাপজল ও লিপজেল ব্যবহার করতে হবে। চুল সুন্দর রাখার জন্য দুইদিন পর পর শ্যাম্পু করতে হবে।

আর আমাদের প্রতিদিন দুইবার ফেইস ওয়াশ দিয়ে মুখ ধুতে হবে। শীতকালে আমরা যদি একটু সচেতন হয়ে চলি তাহলে শীতের প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করে সুস্থ ও সুন্দর থাকতে পারি।

গোসলে সাবধান হোন

শীতকালে গোসল করা হচ্ছে সবচেয়ে কষ্টের কাজ। আমাদের ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য গোসল করা প্রয়োজন। কিন্তু যাদের ঠান্ডার সমস্যা আছে তারা কিছু নিয়ম অনুসরণ করলে সমস্যা কম হয়।

যেমন শিশুদের বেলায় গোসলের আগে পানি না ফুটিয়ে রোদে গরম করলে ভাল হয়। গোসলের আগে তাদের শরীরে অলিভ অয়েল বা সরিষার তৈল মাখলে ঠান্ডায় সমস্যা কম হয়।

গোসলের পর পুরো শরীর ভালভাবে মুছে বডি লোশন লাগালে ত্বক সুন্দর থাকে। বয়স্কদের বেলায় গোসলের আগে স্পর্শকাতর জায়গায় সরিষার তৈল মেখে গরম পানিতে গোসল করে শরীর ভালভাবে মুছে রোদে বসলে ঠান্ডার সমস্যা কম হয়।

পরিশেষে বলতে পারি, বছরের যেকোনো সময় আমরা যদি একটু সাবধান ও সতর্ক থাকি তাহলে আমাদের অসুখ বিসুখ কম হবে। আমরা সুস্থ ও সুন্দর থাকব। আসুন সচেতন হই, নিজেকে সুস্থ রাখি।

আসমা আক্তার শান্তা-এর আরও প্রবন্ধ পড়ুন

জেনে নিন কেনাকাটার বিচিত্র সব উপায়

জহির রায়হানের জীবনী, গল্প এবং উপন্যাস সমগ্র

তৈরি করে নিন মজার খাবার - ছোলার ডালের কচুরি রেসিপি


আরও প্রবন্ধ পড়ুন






© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত LearnArticle.com