বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে খেলাধুলার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

আসমা আক্তার শান্তা
প্রকাশকাল (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)

f
g+
t

শরীর চর্চার পাশাপাশি খেলাধূলা মানুষের বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সারাদিনের কর্মব্যস্থতার পর মানুষের মধ্যে একটা বিরক্তির ভাব চলে আসে। কাজের প্রতি বিরক্তির ভাব কাটানোর জন্য আনন্দ এবং বিনোদন অত্যন্ত জরুরি। আর খেলাধুলা তেমনি একটি জিনিস যা মানুষের মনে আনন্দ দিতে পারে। কেননা খেলা মানেই আনন্দ। তাছাড়া খেলাধুলার মাধ্যমে মন ভাল থাকে এবং শরীর স্বাস্থ্য ঠিক থাকে। তাই অবসর সময়টা আনন্দময় করে তুলতে খেলার কোন বিকল্প নেই।

বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে খেলাধুলার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

ছবি আসমা আক্তার শান্তা

ক্রিকেটের সর্বশেষ খবর সরাসরি দেখুন। লাইভ ক্রিকেট স্ট্রিমিং

খেলাধুলার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তাঃ খেলাধুলার মাধ্যমে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরিচালিত হয় এবং এতে শারিরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। খেলাধুলা দেহ ও মনকে বলিষ্ঠ ও সংযত করে। শরীরে রক্ত চলাচল সঠিকভাবে চলার মাধ্যমে হৃদপিণ্ডের কাজ ভাল হয়। হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। খেলাধুলা মানুষের সৃজনশীলতা বিকাশ ঘটায়। মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে।

তবে অতিরিক্ত খেলাধুলা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিকালবেলা শিশুদের খেলাধুলার জন্য উপযুক্ত সময়। তবে খেলাধুলা করার পর শিশুদের ঘার্মাক্ত শরীরে গোসল করা ও হাত মুখ ধোয়া থেকে বিরত রাখতে হবে। একটু বিশ্রামের পর হাত মুখ ধুয়ে পরিষ্কার হতে হবে।

শারীরিক গঠন ও অর্থনীতিতে খেলাধুলাঃ খেলা দুই ধরনের। যেমন - মাইনর গেইম ও মেজর গেইম। মাইনর গেইমগুলো ছোট পরিসরে খেলা হয়ে থাকে। এসব খেলা সবাই ছোট বেলায় বেশি খেলে থাকে। যেমন - এক্কা দোক্কা, রুমাল চোর, বউ সি, দঁড়ি খেলা, চোর পুলিশ, মাংস চুরি, নেতা খুঁজে বের করা, কপালে টিপ পরা ইত্যাদি।

এসব খেলা আমাদের শরীর গঠনে সাহায্য করে। মাংস পেশী শক্ত, পেশী সঞ্চালন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। আমাদের হাঁটা চলা স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে। মেজর গেইম বড় পরিসরে খেলা হয়। যেমন ফুটবল, ক্রিকেট, টেবিল টেনিস, হকি, ব্যাডমিন্টন ইত্যাদি। এসব খেলা দেশের অর্থনীতিতে অনেক অবদান রাখে। এসব খেলা খেলে খেলোয়াড় নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হয় এবং দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয়।

যেমন ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার টিকেট বিক্রি করে দর্শক থেকে অনেক টাকা আয় করে থাকে। এছাড়া বিশ্বকাপ ফুটবল, ক্রিকেট, অলিম্পিক গেইমস ইত্যাদি থেকে যেকোনো দেশ প্রচুর অর্থ উপার্জন করে থাকে। খেলাকে যদি আমরা পেশা হিসেবে বিবেচনা করি তাহলে আর্থিকভাবে আমরা যেমন লাভবান হব তেমনি বিশ্বের কাছে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হব।

বিনোদনে খেলাধুলার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তাঃ বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনে মানুষের বিনোদনের জন্য সময় নেই বললেই চলে। সারাদিন শুধু কাজ আর কাজ। সবাই যার যার কাজ নিয়ে এত ব্যস্ত যে, কেউ কাউকে নিয়ে ভাবার জন্য কিংবা কাউকে সময় দেয়ার সময় নেই।

তাই কর্মব্যস্ত জীবনে সবাই চায় একটু আনন্দে সময় কাটাতে। আর ছোট ছোট অবসর সময়গুলো আনন্দময় করে তুলতে খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই। আজকাল খেলাধুলা করার জন্য মাঠে যেতে হয়না। নিজ নিজ জায়গায় যেমন - ঘরে বসে, অফিসে, স্কুল - কলেজে ইত্যাদি জায়গায় ছোট ছোট অবসর সময়টা খেলা করে একঘেঁয়েমি দূর করা যায়।

এতে মন ও ভাল থাকে এবং কাজের গতি বেড়ে যায়। খেলার জন্য একটি মোবাইল ফোন, ল্যাবটপ, টেপ, ট্যাবলেট, ডেস্কটপ ইত্যাদি থাকলে ছোট ছোট অবসর সময়ে বিভিন্ন খেলা করে আনন্দ পাওয়া যায়। বর্তমানে বিভিন্ন গেইম খেলে সবাই আনন্দ পেয়ে থাকে। যেমন - জি টি এ বাই সাটি, এংরি বার্ডস, সুপারম্যান, ৮ বল পুল ইত্যাদি।

তবে এসব গেইমস সব বয়সের সবাই খেলতে পারে। খেলার জন্য একটু সময় ও একটু ধৈয্যের প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের এসব গেইমসের প্রতি বেশি আগ্রহ। সব বয়সের সবাই এসব গেইম খেলে মজা পেয়ে থাকে। খেলা সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে। মানুষের মধ্যে আত্ন- বিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।

আমরা অনলাইন থেকে আমাদের ইচ্ছামতো গেইমগুলো ইনস্টল করে মোবাইলে নিতে পারি। কিছুদিন পর আবার পুরাতন গেইম আনইনস্টল করে নতুন নতুন গেইম ইনস্টল করে নিতে পারি। আসুন আমরা অযথা সময় নষ্ট না করে, ছোট ছোট অবসরে অন্যের চর্চা না করে, খেলাধুলা করি এবং এর গুরুত্ব সম্পকে সচেতন হই।

খেলাধুলার অসুবিধাঃ খেলার অনেকগুলো সুবিধা যেমন আছে এর অসুবিধা ও কম নয়। অতিরিক্ত খেলাধূলা শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের খেলাধুলার জন্য একটু সময় করে দিতে হবে। তবে সেই খেলাধুলা যেন অতিরিক্ত না হয়। কারন শিশুদের যদি খেলার দিকে মনোযোগ বেশি চলে গেলে অন্য কাজ করবে না।

একইভাবে অন্যদের বেলায় ও খেলাটা যেন নেশায় পরিণত না হয়। তাহলে জীবনের অন্য উদ্দেশ্য পূরণ করা সম্ভব হবে না। তাছাড়া মোবাইলে বা ল্যাপটপে গেইম বেশি খেললে ব্যাটারির সমস্যা হয়। বার বার ব্যাটারি পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া সবসময় ভাল ব্যাটারি পাওয়া যায়না।

তাই আমরা একটু আনন্দ পাওয়ার জন্য গেইম খেলব পুরো মোবাইলটাকে নষ্ট করে নয়। একইভাবে জীবনে আনন্দ করার প্রয়োজন আছে তবে পুরো জীবন নষ্ট করে নয়। আসুন সবাই সচেতন হই, খেলাধুলাকে জীবনের একটা অংশ মনে করে নিজে আনন্দ করি এবং শিশুদের আনন্দ করার সুযোগ করে দেই।

আসমা আক্তার শান্তা-এর আরও প্রবন্ধ পড়ুন

* জনসংখ্যা সমস্যা নয় সম্পদ তথা উন্নয়নের উৎস

* প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যবস্থাপনা এবং পূর্ব প্রস্তুতি

* ব্যবসা সংক্রান্ত সঠিক তথ্য জেনে ব্যবসা শুরু করুন

বিজ্ঞাপন

আরও প্রবন্ধ পড়ুন






© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত LearnArticle.com