মনের মত করে আপনার থাকার ঘরটি । ঘর সাজানো টিপস

আসমা আক্তার শান্তা
প্রকাশকাল (১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)

f
g+
t

বাসস্থান তথা ঘর হচ্ছে আমাদের অত্যন্ত প্রিয় জায়গা। সারাদিনের ব্যস্থতা শেষে যখন বাড়ি ফিরি তখন অনেক শান্তি পাওয়া যায়। তবে আপনার থাকার ঘরটিই যদি মনের মত না হয় তাহলে কি আর শান্তি পাওয়া যায়। তাছাড়া থাকার ঘরটি সুন্দর এবং সাস্থ্যকর না হলে মানুষিক এবং শারিরীকভাবে সুস্থ্য স্বাভাবিক জীবন-যাপন করা সম্ভব না। সেজন্য আমাদের বসবাসের জায়গাটাকে সুন্দর এবং সাস্থ্যকরভাবে তৈরি করা দরকার।

মনের মত করে আপনার থাকার ঘরটি । ঘর সাজানো টিপস

ছবি আসমা আক্তার শান্তা

বাসস্থল সুন্দর রাখার প্রয়োজনীয়তা

বাসস্থান অর্থাৎ আমাদের থাকার জায়গাটি যদি সুন্দর থাকে তাহলে সারাদিন কাজের শেষে আমরা যখন ঘরে ফিরি তখন নিজের কাছে একটু শানিত লাগে। আমাদের ঘর যদি পরিষ্কার - পরিচ্ছন্ন থাকে তাহলে অসুখ বিসুখ কম হয়। ঘর যদি সাজানো গোছানো তাহলে দেখতেও ভাল লাগে এবং মনও ভাল থাকে।

আর মন ভাল থাকলে যেকোন কাজ করতে ভাল লাগে। কথায় আছে - "পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। " ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি আমাদের থাকার ঘরটিও পরিষ্কার রাখতে হবে। এতে শরীর স্বাস্থ্য ঠিক থাকবে। তাই নিজে ভাল থাকার জন্য ও সবাইকে ভাল রাখার জন্য থাকার ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত।

বাসস্থান সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখার উপায়

আমরা অনেকে মনে করি ঘর সুন্দর ও গোছালো রাখতে অনেক কাজ করতে হয় এবং অনেক দামি দামি ফার্ণিচার লাগে। কিন্ত আমার যা আছে তা যদি আমি গুছিয়ে পরিষ্কার রাখি আমার নিজের কাছে যেমন ভাল লাগবে তেমনি অন্যজন ও ভাল বলবে। কিন্ত দামি দামি ফার্ণিচারে যদি ধুলাবালি লেগে থাকে তাহলে সেখানে কেউ বসতেও চাইবে না। আমরা বিভিন্নভাবে বাসস্থান পরিষ্কার রাখতে পারি। যেমন -

১) প্রতিদিন ঘরের মেঝে মুছতে না পারলেও দুই একদিন পর মুছা।

২) বাইরে থেকে ঘরে প্রবেশের সময় জুতা বাইরে রাখা অথবা ঘরের বাইরে ও ভিতরে আলাদা আলাদা জুতা ব্যবহার করা।

৩) ঘরের ভিতরে একটি ঝুড়ি রাখা যেকোনো বাতিল জিনিস ঘরের মেঝে বা আশেপাশে না পেলে ঝুড়িতে ফেলা।

৪) কোন জিনিস খেয়ে মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে না ফেলে এক জায়গায় রেখে খাওয়া শেষে একসাথে ফেলে দেওয়া।

৫) কয়েকদিন পর পর ঘরের ব্যবহার্য আসবাবপত্র মুছে ফেলা যাতে ধুলাবালি না জমে।

৬) সকালে ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথে যদি বিছানাটা গুছিয়ে রাখা হয় তাহলে দেখতে অনেক ভাল লাগে। তাছাড়া দিনের যেকোনো সময় বিছানা থেকে ওঠার সাথে সাথে বিছানা গুছিয়ে রাখতে হবে।

৭) খাটের সাথে ঝুলানো মশারিটা ব্যবহারের পর সকালে ওঠে গুছিয়ে আলাদা জায়গায় রাখা, তাহলে দেখতে ভাল লাগবে।

৮) পড়ার টেবিলে বই-খাতা পড়া শেষে গুছিয়ে রাখা আর শিশুদের গুছানোর অভ্যাস করা।

৯) ঘরের আসবাবপত্র কয়েক মাস পর পর জায়গা পরিবর্তন করা তাতে ঘর দেখতে ও ভাল লাগে এবং মন ভাল থাকে।

১০) যাদের ঘরে শিশু রয়েছে তারা শিশুদের কাপড় চোপড় ও খেলনার জন্য আলাদা আলাদা বক্স ব্যবহার করা। খেলা শেষে তাদের খেলনাপাতি নিজে গুছিয়ে রাখা এবং তাদেরকে গুছিয়ে রাখতে উৎসাহিত করা।

১১) ডাইনিং টেবিলে খাওয়ার পর হাড়ি পাতিল, প্লেট, গ্লাস, জগ ইত্যাদি যার যার জায়গায় গুছিয়ে রাখা এবং গ্লাসের স্ট্যান্ড কিছুদিন পর পর ধুয়ে পরিষ্কার রাখা।

১২) ঘরের বাথরুম সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। যাদের বড় পরিবার তাদেরকে সপ্তাহে দুইবার এবং যাদের ছোট পরিবার তাদেরকে সপ্তাহে একবার ধুতে হবে।

১৩) রান্নাঘরের বেসিন হাড়ি পাতিল ধুয়ার পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সম্ভব হলে সপ্তাহে একবার ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ধুতে হবে। যাতে রোগ জীবানুর আক্রমণ না হয়।

১৪) ড্রেসিং টেবিলের ওপর আমরা অনেকে প্রসাধনী সামগ্রী এলোমেলো করে রাখি। প্রয়োজনের সময় আমরা কিছু খুঁজে পায় না। কিন্ত এগুলো যদি গুছিয়ে রাখি তাহলে ঘরটা দেখতে সুন্দর লাগবে।

১৫) বছর শেষে হওয়ার সাথে সাথে আমরা আগের বছরের ক্যালেন্ডার খুলে নতুন বছরের ক্যালেন্ডার লাগাব। তাতে ঘরের সৌন্দর্য বাড়বে।

১৬) প্রত্যেক রুমের সামনে একটা করে পাপশ দিন। তাতে রুমে ময়লা কম হবে এবং বিছানা পরিষ্কার থাকবে।

১৭) সব রুমের দরজা -জানালায় পর্দা লাগান এবং ঘরের সৌন্দর্য বাড়ান।

১৮) ঘরের মধ্যে সবচেয়ে অগোছালো থাকে কাপড় চোপড় গুলো। ঘরের সবাইকে যার যার কাপড়গুলো গোছানোর অভ্যাস করাতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের স্কুল থেকে আসার পর কাপড় গুলো নিজে গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করাতে হবে।

১৯) বর্তমানকালে সবার ঘরে কিছু না কিছু ওষুধ প্রতিদিন খাওয়া লাগে। কিন্ত প্রয়োজনের সময় অনেক ক্ষেত্রে খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই এসব ঝামেলা থেকে বাঁচতে এবং ঘরকে সুন্দর রাখতে সব ওষুধ এক জায়গায় একটি বক্সে গুছিয়ে রাখতে হবে।

২০) আমরা সবাই প্রতিদিন জুতা ব্যবহার করি। জুতাগুলো ব্যবহারের পর এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে না রেখে জুতার স্ট্যান্ডে সাজিয়ে রাখলে দেখতে ও সুন্দর লাগে এবং জুতাগুলো ভালো থাকে।

পরিশেষে বলতে পারি, প্রত্যেক মেয়েদের জীবনে একটা স্বপ্ন থাকে একটা সুন্দর ঘর ও একটা ভাল বরের। কিন্ত সবার স্বপ্ন বাস্তবে সত্যি হয়না। ফলে ঘরের মত জীবনটা আস্তে আস্তে অগোছালো হতে থাকে। ঘর সুন্দর ও পরিপাটি রাখার জন্য আস্তে আস্তে গোছানোর অভ্যাস করতে হয় তেমনি জীবনটা সুন্দর করার জন্য সুন্দর জীবন-যাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হয়। জীবন সুন্দর হলে ঘর গোছানো থাকবে ঘরের মানুষেরা গোছালো হবে।

আসমা আক্তার শান্তা-এর আরও প্রবন্ধ পড়ুন

বাংলাদেশের মানুষের শীতকালীন জীবন-যাত্রা । শীতের সকাল

কনকনে শীত থেকে বাচার উপায় ও শীত কাল সংক্রান্ত পরামর্শ

শরীর ভালো রাখার উপায় হিসেবে কায়িক শ্রমের গুরুত্ব

বিজ্ঞাপন

আরও প্রবন্ধ পড়ুন






© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত LearnArticle.com