তৈরি করে নিন শীতের সব মজার পিঠা । শীতের পিঠা রেসিপি

সোহাগ আহমেদ
প্রকাশকাল (০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)

f
g+
t

বাংলাদেশে আছি আর শীতকালে পিঠা হবে না, তা কি করে হয়। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের আনাচে কানাচে পিঠা পুলির ধুম শুরু হয়ে যায়। শীতের সকালের মিষ্টি রোদে এবং গোধূলি বিকেলে পিঠা ছাড়া অন্য কিছু ভাবাই যায় না। আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে প্রত্যেকটা ঘরেই পিঠা পাওয়া যায় আর শহরে রাস্তার বাকে বাকে। সব মিলিয়ে পিঠা প্রাপ্তির জায়গার কমতি নেই। আজ আপনাদের শেখাব কিভাবে মজাদার সব শীতের পিঠা তৈরি করা যায়। আমাদের দেশে বহুল পরিচিত কয়েকটি পিঠার প্রস্তুত প্রনালি সম্পর্কে আলোচনা করব।

তৈরি করে নিন শীতের সব মজার পিঠা । শীতের পিঠা রেসিপি

ছবি সোহাগ আহমেদ

ক্যারামেল পুডিং বানানোর সহজ রেসিপি | পুডিং তৈরির পদ্ধতি

রান্নাঘর সাজানো এবং সুন্দর করার উপকারী কিছু টিপস

শীতের পিঠা বানানোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে চালের গুড়ো। শহরে চালের গুড়ো পাওয়া খুবই দুঃসাধ্য। তবে এখন বাজারে প্যাকেট করা শুকনো চালের গুড়ো পাওয়া যায়। তাছাড়া, আতপ চাল কিনে মেশিনে গুড়ো করে নিলে সবচেয়ে ভাল হয়। নিজে চালের গুড়ো করার আগে চালগুলো কিছুক্ষণ আগে ভিজিয়ে নিলেও ভাল হয়। চালের গুড়ো সংরক্ষণ করার জন্য রোদে শুকিয়ে কিংবা ফ্রিজেও রাখা যেতে পারে।

ভাপা পিঠাঃ ভাপা পিঠা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল নির্বিশেষে সবার কাছেই সমান পরিচিত। শীতকালে গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটা বাড়িতেই ভাপা পিঠার গন্ধ পাওয়া যায়। শহরে রাস্তার ধারে সকাল সন্ধায় ভাপা আর চিতোই পিঠার উৎসব জমে। তার সাথে তো বিভিন্ন রকম ভর্তা আছেই। এইবার আপনাদের দেখাবো কিভাবে সবার প্রিয় ভাপা পিঠা বানানো হয়।

ভাপা পিঠা বানানোর জন্য প্রথমেই চালের গুড়োগুলোকে অল্প পানি দিয়ে মাখিয়ে নিতে হবে। তারপর মাঝারি ছিদ্রের চালনি দিয়ে পানিমাখা চালের গুড়ো চালতে হবে। তারপর একটা ছোট কাহের কলসে বেশি করে পানি নিয়ে ভাপ তৈরি করতে হবে যার মাধ্যমে পিঠা তৈরি হবে। সবার শেষে, একটা নির্দিষ্ট মাপের বাটিতে অর্ধেক চালের গুড়ো তার উপর খেজুরে গুড় এবং নারিকেল দিয়ে তারপর আবার চালের গুড়ো দিয়ে বাটি পরিপূর্ণ করতে হবে। তারপর বাটিটির উপর একটা জালি দিয়ে পেচিয়ে কলসের মুখের উপর রাখতে হবে। কিছুক্ষন পর নামিয়ে নিলে দেখতে পাবেন পিঠা তৈরি হয়ে গেছে।

চিতোই পিঠাঃ আমার মতে পিঠার জগতে সবচেয়ে সহজ পিঠা হল চিতোই। এই পিঠা বানানোর জন্য প্রথমে চালের গুড়ো গুলোকে পানির সাথে গাঢ় করে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর চুলায় মাটির পাত্র বসিয়ে কিছুক্ষণ তাপ দেয়ার পর চালের গুড়োর মিশ্রণ দিতে হবে। তারপর ঢাকনা দিয়ে ভালভাবে ঢেকে দিতে হবে। তবে মাটির পাতিল না হলেও চলে। চিতোই পিঠার বিশেষ আকর্ষণ হল বাহারি রকম ভর্তা যেমন- শর্ষে ভর্তা, শুটকির ভর্তা, ধনেপাতার ভর্তা, পুদিনা পাতার ভর্তা ইত্যাদি।

ছিটা রুটিঃ এই পিঠাটি বাংলাদেশের সব অঞ্চলে প্রচলিত না থাকলেও বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়। ছিটা রুটি বানানোর জন্য চালের গুড়ো চিতোই পিঠার মত করে গুলিয়ে সাথে আদা রসুন বাটা মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর কড়াইয়ের মধ্যে অল্প করে তেল দিয়ে চালের গুড়ো গুলাকে হাতের আঙ্গুল দিয়ে ছিটিয়ে ছিটিয়ে রুটি পিঠার মত দিতে হবে। তারপর ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিয়ে কিছুক্ষন পর নামিয়ে নিলেই পিঠা তৈরি হয়ে যাবে। ছিটা রুটি ভর্তা, ডিম ভাজা, কিংবা শুধু শুধুই খাওয়া যায়।

পুলি পিঠাঃ পুলি পিঠা বানানো খুবই সোজা। পুলি পিঠা বানানোর জন্য প্রথমে ময়দা কিংবা চাউলের গুড়া দিয়ে রুটি বানাতে হবে। তারপর পুলি পিঠার ফ্রেমের মধ্যে রুটি রেখে তার ভেতর নারকেল ও গুড়ের মিশ্রণ দিয়ে চাপ দিলেই পুলি পিঠা তৈরি হয়ে যাবে। অবশ্য রুটি বানানোর আগেই নারিকেল ও গুড় কিংবা চিনি দিয়ে খামি বানিয়ে নিতে হবে। এরপর পিঠা গুলো ডুবো তেলে ভাজতে হবে। এভাবে খুব সহজেই ঘরে বসে মজাদার সব পিঠা তৈরি করতে পারেন।

এতসব সুস্বাদু খাবার রান্না করার বেলায় অবশ্যই লবণ দিতে ভুলবেন না যেন। কেননা খাবারে যত ধরনের মশলাই দেন না কেন লবণ না দিলে সব কিছুই বৃথা।

সোহাগ আহমেদ-এর আরও প্রবন্ধ পড়ুন

ইউটিউবে ভিডিও মার্কেটিং করে আয় করুন । ইউটিউব ইনকাম টিপস

সময়ের সদ্ব্যবহার করে নিজেকে গঠন করার এখনই সময়

আর কত অপচয় করলে অপচয় রোধ করা যাবে


আরও প্রবন্ধ পড়ুন






© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত LearnArticle.com