ব্যবসা সংক্রান্ত সঠিক তথ্য জেনে ব্যবসা শুরু করুন

আসমা আক্তার শান্তা
প্রকাশকাল (০৯ মার্চ ২০১৭)

f
g+
t

বর্তমান যুগ ব্যবসায়ের যুগ। ব্যবসাকে কেন্দ্র করে যেকোনো দেশ খুব সহজে উন্নতির শিখরে আরোহণ করতে পারে। কারন ব্যবসায়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয়, বেকারদের কর্মসংস্থান হয়, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটে এবং ভোক্তা খুব সহজে প্রয়োজনীয় সেবা পেয়ে উপকৃত হয়। কিন্ত ব্যবসা করতে হলে ব্যবসায়ীকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। তাহলে সফলভাবে ব্যবসা করে নিজের সর্বোপরি দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব হয়। তাই সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে নিজের ভাগ্য উন্নয়ন করতে নিম্নোক্ত তথ্য জানুন।

ব্যবসা সংক্রান্ত সঠিক তথ্য জেনে ব্যবসা শুরু করুন

ছবি আসমা আক্তার শান্তা

হাঁস পালন হতে পারে উপার্জনের বড় মাধ্যম। হাঁস পালনের নিয়ম

এবার খুব সহজেই ঘরে বসে অনলাইনে কেনাকাটা করুন

ব্যবসায় সর্ম্পকে ধারণা

ব্যবসা করতে চাইলে প্রথমে যে যে ধরনের ব্যবসা রয়েছে সে সর্ম্পকে ধারণা নিতে হবে। তারপর স্থির করতে হবে আপনি কী ধরনের ব্যবসা করতে চান। বাংলাদেশে অনেক ধরনের ব্যবসা রয়েছে। যেমন -

১) একমালিকানা ব্যবসায় - এই ব্যবসায়ে মালিক একজন। তিনি একাই সব মূলধন সরবরাহ করেন এবং সমুদয় মুনাফা একাই ভোগ করেন।

২) অংশীদারী ব্যবসায় - চুক্তি এই ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি। এই ব্যবসায়ের সর্বনিম্ন সদস্য ২ জন এবং সর্বোচ্চ ২০ জন। চুক্তির শর্তানুযায়ী ব্যবসায়ের যাবতীয় ঝুঁকি ও মুনাফা বন্টিত হয়।

৩) যৌথমূলধনী - এই ব্যবসায়ে অংশীদারদের মধ্যে শেয়ার অনুপাতে লাভ ও ক্ষতি বন্টিত হয়।

৪) প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি - এই ব্যবসায়ের সর্বনিম্ন সদস্য ২জন এবং সর্বোচ্চ ৫০জন।

৫) পাবলিক লিঃ কোঃ-এই ব্যবসায়ের সর্বনিম্ন সদস্য ৭ জন এবং সর্বোচ্চ শেয়ার সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ।

৬) ক্ষুদ্র ব্যবসায় - এই ব্যবসায়ের মূলধন ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ঘরোয়া পরিবেশে অথবা ইচ্ছা করলে বাইরে ও এই ব্যবসায় শুরু করা যায়।

বর্তমানে অনলাইনে ও অনেক ধরনের ব্যবসা করা যায়। যেমন - জামা কাপড়, হাতের তৈরি কোন জিনিস, বিভিন্ন পরামর্শমূলক ব্যবসা, হাতের তৈরি খাবার, কুটির শিল্পের বিভিন্ন জিনিস ইত্যাদি।

এসব কিছু জানার পর আপনাকে চিন্তা করতে হবে আপনি কোন ধরনের ব্যবসা করার যোগ্য। আপনার মূলধন কত? আপনি সফলভাবে ব্যবসাটি চালাতে পারবেন কিনা? এছাড়া আপনার এই বিষয়ে কোন অভিজ্ঞতা আছে কিনা? আপনি অন্যের সাথে খুব সহজে মিশতে পারেন কিনা?

বিবেচ্য বিষয়

যেকোনো ব্যবসা করার জন্য কিছু বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হয়। যেমন -

১) প্রবল ইচ্ছাশক্তি - ব্যবসা করার জন্য প্রবল ইচ্ছা শক্তি থাকতে হয়। তাহলে সহজে ব্যবসায়ে উন্নতি করা যায়।

২) বিষয়বস্তু নির্ধারণ - ব্যবসা করার জন্য বিষয়বস্তু নির্ধারণ করে ব্যবসাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হয়।

৩) স্থান নির্বাচন - জনবহুল জায়গায় ব্যবসা শুরু করলে সহজে উন্নতি করা যায়।

৪) পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা - ব্যবসাটি যেখানে শুরু
করা হবে সেখানে পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সুবিধা থাকতে হবে। তাহলে সহজে লাভজনক ভাবে ব্যবসাটি পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

৫) ক্রেতার চাহিদা - ক্রেতার যে যে পণ্যের ওপর বেশি চাহিদা রয়েছে সেসব পণ্যের ব্যবসা লাভজনক ভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

৬) প্রাথমিক মূলধন - ব্যবসায় সফলতার সাথে পরিচালনার জন্য স্থায়ী ও চলতি মূলধন পর্যাপ্ত হওয়া উচিত। মূলধন নিজস্ব উৎস, বন্ধু - বান্ধব, আত্নীয়-স্বজন, ব্যাংক ঋণ ও জায়গা জমি বিক্রি করে সংগ্রহ করা যায়।

৭) ব্যাংক ও বীমা - যেকোনো ব্যবসায় শুরু করার জন্য আমাদের ঋণ নিতে হয়। তাই কোন ব্যাংক থেকে সহজে ও কম সুদের ঋণ নেওয়া যাবে সেই বিষয়ে খবর নিতে হবে।

৮) অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা - উদ্যোক্তার ব্যবসায় সম্পর্কে পূর্ব- অভিজ্ঞতা এবং ব্যবস্থাপনা বিষয়ে উপযুক্ত শিক্ষা ব্যবসায় সফল হতে সাহায্য করে।

৯) নিজের দূর্বলতা সম্পর্কে সজাগ থাকা - উদ্যোক্তা যদি নিজের দূর্বলতা সম্পর্কে সজাগ থাকেন তবে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সংকট এড়ানো যায়।

১০) যৌথ উদ্যোগ - পারিবারিক সহযোগিতা ও যৌথ উদ্যোগ ব্যবসায়ের সফলতা অর্জনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

১১) সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার - উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং প্রয়োজনবোধ স্থানীয় ও আমদানিকৃত প্রযুক্তির সংমিশ্রণ ব্যবসার সাফল্য অর্জনের পথ সুগম করে।

১২) দেশের আর্থ সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা - ব্যবসায়ীকে দেশের চলমান আর্থ সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে ব্যবসায় শুরুর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়।

১৩) ব্যবসায় ঝুঁকি মোকাবেলার উপায় - উপযুক্ত পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যবসায় ঝুঁকি নিরূপণ ও তা মোকাবেলার উপায় নির্ধারণ ব্যবসায় সাফল্য লাভের অন্যতম শর্ত।

১৪) সুষ্ঠ ব্যবসা পরিকল্পনা প্রণয়ন - ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিকল্পনা হচ্ছে দিকনির্দেশনা দলিল। পরিকল্পনা প্রণয়ন যত বেশি সমৃদ্ধ হবে ব্যবসায়ে সফল হওয়ার নিশ্চয়তাও তত বেশি হবে।

উদ্যোক্তা উন্নয়নে সহায়ক প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান

যে সমাজ ও দেশে উদ্যোক্তার সংখ্যা যত বেশি, সে সমাজ বা দেশ অর্থনৈতিকভাবে তত উন্নত। বাংলাদেশে উদ্যোক্তা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রদানকারী অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নিম্নে এগুলোর কার্যক্রম ব্যাখ্যা করা হলো -

১) বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন বোর্ড - এটি গ্রামের দুস্থ ও ভূমিহীন নারী পুরুষদের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাধীনভাবে পেশা বেছে নিতে সাহায্য করে।

২) যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র - এই কেন্দ্রে হাঁস-মুরগির খামার তৈরি, মৎস্য চাষ, সবজি বাগান, নার্সারি করা, সেলাইয়ের কাজ, কুটির শিল্পের কাজ, কম্পিউটার চালনা প্রভৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্ন-কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া হয়।

৩) নট্রামস- এই প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ও কম্পিউটার চালনা শিক্ষা দিয়ে স্বাবলম্বী করে তুলে।

৪) এনজিও- বর্তমানে বিভিন্ন এনজিও - (ব্রাক, আহছানিয়া মিশন, প্রশিকা) প্রভৃতি বেকার যুব সমাজকে জীবন ও জীবিকা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে।

এছাড়া বর্তমানে ইউটিউব সবচেয়ে বড প্রশিক্ষণের ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। ইউটিউব থেকে যেকোনো বিষয়ের ওপর কাজ শিখে স্বাবলম্বী হওয়া যায়।

বাংলাদেশে ব্যবসায়ের আইনগত দিক

১) লাইসেন্স - যেকোনো ব্যবসায় শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা নিবন্ধন করতে হয়। এক মালিকানা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে যদি এর অবস্থান পৌর এলাকার ভিতরে হয় তবে পৌর কর্তৃপক্ষের এবং পৌর এলাকার বাইরে হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এবং সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে হলে সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। বাংলাদেশে অংশীদারী ব্যবসায়ের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়। তবে অংশীদারগণ ইচ্ছা করলে নিবন্ধন করতে পারে।

২) যৌথ মূলধনী কোম্পানি নিবন্ধন - এই ব্যবসায়ের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে কোম্পানি নিবন্ধকের ভূমিকা পালন করেন রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি। এক্ষেত্রে কোম্পানির দলিলাদি ও প্রমাণপত্র পরীক্ষা - নিরীক্ষা করে সন্তুষ্ট হলে নিবন্ধক নিবন্ধনপত্র ইস্যু করেন। নিবন্ধন পত্র পাওয়ার সাথে সাথে কোম্পানি জন্মলাভ করে।

৩) ফ্রানসাইজিং - কোনো খ্যাতনামা কোম্পানির নাম ব্যবহার এবং এর পণ্য তৈরি, বিক্রি বা বিতরণ করার অধিকারকে ফ্রানসাইজিং বলে। উদাহরণ - পিজ্জাহাট, কেএফসি উইম্পি,কেনটাকি ইত্যাদি।

৪) পেটেন্ট - পেটেন্ট করার প্রধান উদ্দেশ্য হলো শিল্পোদ্যোক্তার পরিশ্রমলব্দ উদ্ভাবন নকল বা অন্য কোনো উপায়ে তৈরি বা বিক্রি করে যাতে আর্থিক সুবিধা অর্জন না করতে পারে তার ব্যবস্থা করা।

৫) ট্রেডমার্ক- ব্যবসার ক্ষেত্রে কোনো পণ্যকে অন্যের অনুরূপ বা অভিন্ন পণ্য হতে স্বতন্ত্র করার লক্ষে ব্যবহৃত প্রতীককে ট্রেডমার্ক বলে।

৬) কপিরাইট - কপিরাইটের মাধ্যমে সাহিত্য, শিল্পকর্ম ও অন্যান্য শিল্পকলা সৃষ্টিকারীকে তার মেধাসম্পদ ব্যবহারের একচ্ছত্র অধিকার প্রদান করা হয়। বর্তমানে কম্পিউটার সফটওয়্যারও কপিরাইট দ্বারা সংরক্ষিত হয়।

আসমা আক্তার শান্তা-এর আরও প্রবন্ধ পড়ুন

* স্বাস্থ্য ভালো রাখা বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

* তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার ও মানবজীবনে এর প্রভাব

* জেনে নিন চাইনিজ চিকেন ফ্রাই তৈরীর নিয়ম । চিকেন ফ্রাই রেসিপি

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আরও প্রবন্ধ পড়ুন



বিজ্ঞাপন



© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত LearnArticle.com