খুব সহজে জেনে নিন কোন খাবারে কোন ভিটামিন আছে

আসমা আক্তার শান্তা
প্রকাশকাল (৩১ মার্চ ২০১৭)

f
g+
t

মানুষের শক্তির মূল উৎস হচ্ছে খাদ্য। শরীর সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখার জন্য আমরা খাবার খাই। যেসব দ্রব্য আমাদের শরীরের পুষ্টিসাধন করে তাই খাদ্য। খাদ্যের মোট উপাদান ছয়টি। এগুলো হলো আমিষ, শর্করা, স্নেহ, পানি, ভিটামিন ও খনিজ লবণ। তাই নিয়মিত ছয়টি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার না খেলে শরীর দুর্বল হয়। কেননা ছোট বড় সকলকে প্রতিদিন পড়ালেখা ও খেলাধুলা ছাড়া ও নানারকম কাজ করতে হয়। এজন্য আমাদের শরীরের শক্তি প্রয়োজন হয়। তাই আমরা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর খেয়ে থাকি। কিন্তু আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা তৈরি করার জন্য কোন খাদ্যে কোন ভিটামিন রয়েছে সেই সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। এবার পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার সম্পর্কে জানুন।

খুব সহজে জেনে নিন কোন খাবারে কোন ভিটামিন আছে

ছবি আসমা আক্তার শান্তা

খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা

১) প্রয়োজনীয় শক্তি পেতে - আমরা যদি প্রতিদিন কিছু না করে শুধুমাত্র শুয়ে বসে দিন কাটায় তাও আমাদের শক্তি প্রয়োজন। তাই আমাদের শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখা, শরীরের অভ্যন্তরীণ চলমান কাজ এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পেতে আমরা ভিটামিন যুক্ত খাবার খাই।

২) রোগ প্রতিরোধ করতে - আমাদের শরীরকে বিভিন্ন রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন যুক্ত খাদ্য খেতে হবে।

৩) দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়রোধ করতে - আমাদের দেহের বৃদ্ধি এবং দেহের ক্ষয়রোধ করতে সহজলভ্য ভিটামিনযুক্ত খাবার খেতে হবে।

ভিটামিনের বর্ণনা

ভিটামিন বিভিন্ন প্রকারের রয়েছে। যেমন ভিটামিন এ, ডি, ই, কে, বি ও সি। এদের মধ্যে প্রথম চারটি তেলে দ্রবীভূত এবং শেষের দুটি পানিতে দ্রবীভূত হয়। তাই এ দুটি দেহে মজুদ থাকে না বললেই চলে। বিশেষ করে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার নিয়মিত খেতে হয়। নিম্নে বিভিন্ন ভিটামিনের কাজ ও উৎস সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো -
১) ভিটামিন এ বা রেটিনাল - ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা, টোডস্কিন, জননশক্তি হ্রাস প্রভূতি রোগের দেখা দেয়। যকৃত, ঘি, ডিমের কুসুম, দুধ, মাখন,পনির, সবুজ শাক-সবজি, মিষ্টি কুমড়া, গাজর, ছোট মাছ , হলুদ ফল ইত্যাদি খাদ্যে ভিটামিন এ পাওয়া যায়। তাই আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য পরিবেশনকালে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ সহজলভ্য ও স্বল্পমূল্যের খাবারের দিকে বেশি নজর দিতে হবে।

২) ভিটামিন ই বা টোকোফেরল- ভিটামিন ই এর অভাবে রক্তশূন্যতা এবং বড়দের জননক্ষমতা নষ্ট হয়। তাছাড়া বিভিন্ন চর্মরোগ, (যেমন - মাথার খুশকি, চুল পড়া,ব্রণ, মেছতা, চোখের নিচে কালো দাগ প্রভূতি) দেখা দেয়।

সবুজ শাক-সবজি, বাঁধাকপি, পালংশাক, ডিমের কুসুম, কলিজা, লেটুস,বিভিন্ন বীজ শস্যের তেল ইত্যাদি খাদ্যে ভিটামিন ই পাওয়া যায়। ভিটামিন ই জাতীয় খাবার আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখা খুব জরুরী।

৩) ভিটামিন ডি বা কেলসিফেরল- শিশুদের রিকেটস এবং বড়দের অস্টিওম্যালেসিয়া নামক রোগ ভিটামিন ডি এর অভাবেই হয়ে থাকে। এই রোগে দেহের হাড় নরম ও ভঙ্গুর হয়।

ডিম,মাছের তেল, দুধ, যকৃত, দুগ্ধজাত খাদ্য ইত্যাদি খাদ্যে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। তাই আমাদের হাড় সুস্থ রাখতে ডিম, দুধ ও মাছের তেল ইত্যাদি খাবার অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি খেতে হবে।

৪) ভিটামিন কে - ভিটামিন কে এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা কমে যায়। তাই আমাদের খাদ্য তালিকায় পালংশাক, টমেটো, বাঁধাকপি, সয়াবিন ইত্যাদি ভিটামিন কে সমৃদ্ধ খাদ্য রাখতে হবে।

৫) ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড - ভিটামিন সি এর অভাবে স্কার্ভি, মাড়ি ফুলে যাওয়া, দাঁতের গোড়া ও অন্ত্র থেকে রক্ত পড়া, অয্যানিমিয়া,দূর্বলতা, সর্দিকাশি এবং ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়াসহ নানা রোগ দেখা দেয়।

ভিটামিন সি আমাদের শরীরে মজুদ থাকে না তাই ভিটামিন সি আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অবশ্যই থাকা উচিত। আমলকিতে সবচেয়ে বেশি ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

এছাড়া লেবু, আমড়া, টমেটো, পেয়ারা, বাতাবি লেবু, আনারস ইত্যাদি। আমরা সবাই কম মূল্যমানের ও বেশি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার হিসেবে লেবু, আমড়া, টমেটো, পেয়ারা ইত্যাদি ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খেতে পারি।

৬) ভিটামিন বি-১ বা থায়ামিন - থায়ামিনের অভাবে ক্ষুধা মন্দা এবং বেরিবেরি নামক রোগ হয়ে থাকে। কলিজা, ডিম, মাছ, মাংস, ঢেঁকিছাটা চাল,মসুর ডাল, চিনাবাদাম, মটর ইত্যাদিতে ভিটামিন বি-১ পাওয়া যায়। তাই আমাদের বেশি পুষ্টিমানের খাবার হিসেবে মসুর ডাল, চিনাবাদাম, ঢেঁকিছাটা চাল ইত্যাদি খাওয়া উচিত।

৭) ভিটামিন বি-২ বা রিবোফ্লেবিন - ভিটামিন বি-২ এর অভাবে মুখের ক্ষত, জিহ্বায় ঘা, ত্বক খসখসে ও চুল উঠে যাওয়া, চোখ লাল হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। দুধ, মাংস, ডিম,যকৃত ও সবজিতে ভিটামিন বি-২ পাওয়া যায়

৮) ভিটামিন বি-১২ বা কোবালামিন - এর অভাবে অয্যানিমিয়া ও স্নায়ুবিক রোগ দেখা দেয়। তাই আমাদের দুধ, ডিম, মাছ, কলিজা, মাংস ইত্যাদি খাওয়া উচিত।

মোটকথা, আমাদের সুষম খাদ্য, সহজলভ্য, কমদামি, ভিটামিনযুক্ত খাবার হিসেবে ছোট মাছ,সবুজ শাক-সবজি, লেবু, আমলকি, ডাল, আঁশ জাতীয় খাবার, পেয়ারা, আমড়া, মৌসুমি ফল ইত্যাদি বেশি করে খাওয়া উচিত।

তাই খাবার পরিবেশনকালে পুষ্টিগুণ দেখে খাবার নির্বাচন করুন। অতএব, জেনে বুঝে সহজলভ্য ভিটামিনযুক্ত খাবার খান এবং অন্যকে খেতে সাহায্য করুন।

আসমা আক্তার শান্তা-এর আরও প্রবন্ধ পড়ুন

* তৈরি করে নিন মজার খাবার - ছোলার ডালের কচুরি রেসিপি

* শরীর ভালো রাখার উপায় হিসেবে কায়িক শ্রমের গুরুত্ব

* কম পুঁজিতে লাভজনক ক্ষুদ্র ব্যবসার কিছু উপকারী আইডিয়া

বিজ্ঞাপন

আরও প্রবন্ধ পড়ুন






© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত LearnArticle.com