প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যবস্থাপনা এবং পূর্ব প্রস্তুতি

আসমা আক্তার শান্তা
প্রকাশকাল (১২ এপ্রিল ২০১৭)

f
g+
t

প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো এক প্রকারের ক্ষতিকর প্রাকৃতিক ঘটনা। এতে মানুষের আর্থ- সামাজিক ক্ষতি হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েই চলেছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগের পেছনে অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব। বাংলাদেশে প্রতি বছর কোন না কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যবস্থাপনা এবং পূর্ব প্রস্তুতি

ছবি আসমা আক্তার শান্তা

জনসংখ্যা সমস্যা নয় সম্পদ তথা উন্নয়নের উৎস

বাঙ্গালীর সংস্কৃতির অংশ হিসেবে সামাজিক উৎসব সমূহ

বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগ

আমাদের দেশে আবহাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সংগঠিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বেশি দেখা যায় বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, বজ্রবৃষ্টি ও টর্নেডো ইত্যাদি। এই সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ জানমালের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে থাকে। সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। নিচে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারন, ব্যবস্থাপনা এবং পূর্ব প্রস্তুতি সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যবস্থাপনা এবং পূর্ব প্রস্তুতি

ছবি আসমা আক্তার শান্তা

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারন

১) সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রধান কারন হলো জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব। আর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারন হচ্ছে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি।

২) বনভূমি ধ্বংস হওয়ার ফলে জীবের আবাসস্থল ধ্বংস হয় এবং জীব ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হওয়ার ফলে দুর্যোগ বেড়েই চলেছে।

৩) জীবাশ্ম জ্বালানী পোড়ানোর ফলে।

৪) বর্তমানে সব জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণের কারণে মাটি কংক্রিটে ভরে যায়। মাটি পানি ধরে রাখার ক্ষমতা হারায়। ফলে বাংলাদেশ খরাসহ বিভিন্ন দুযোগের শিকার হচ্ছে।

৫) জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাড়তি জনসংখ্যার জন্য গৃহ নির্মাণ করার জন্য নির্বিচারে গাছ কাটছে।

৬) নির্বিচারে পাখি নিধন করার ফলে এবং পাখির আবাসভূমি ধ্বংস করার ফলে।

৭) পাহাড় কাটা, নদীর তীরবর্তী বালি উত্তোলনের ফলে দুর্যোগ সংক্রান্ত সমস্যা বেড়ে চলেছে।

৮) পরিবেশ সম্পর্কে মানুষের উদাসীন ধ্যান ধারণার ফলে পরিবেশগত সমস্যা বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় যে সকল প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হবে তাহলো -

১) বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করে দুর্যোগগত সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে।

২) উপকূলীয় বন সৃষ্টি করে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবেলা করতে হবে।

৩) লবণাক্ত পরিবেশে বাঁচতে পারে এমন ফসল উদ্ভাবন করতে হবে।

৪) ঘরবাড়ি, বিদ্যালয়, কলকারখানা ইত্যাদি অবকাঠামোর উন্নয়ন করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করা যায়।

৫) জীবন যাপনের ধরন পরিবর্তন করে।

৬) জলবায়ু পরিবর্তনের কারন সম্পর্কিত ধারণা সবাইকে জানানো।

৭) টিভি, রেডিও ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে পরিবেশ বিপর্যয়ের এসব সংবাদ প্রচার করে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

৮) পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবেলার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় পূর্ব প্রস্তুতি

১)দূর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে আমরা দুযোগ মোকাবেলায় কাজে লাগবে এমন কিছু উপকরণ বাড়িতে আগেই গুছিয়ে রাখতে হবে।

২) দূর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য মূল্যবান সম্পদগুলো অন্য জায়গায় সরিয়ে নিতে হবে।

৩) নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠাতে পারি।

৪) প্রাথমিক চিকিৎসার বক্স ঘরে রাখতে হবে।

৫) দূর্যোগ কালে খাবার হিসেবে শুকনো খাবার আগেই মজুদ রাখতে হবে।

৬) টিভি, রেডিও, মাইক ও পারলে নিজ নিজ এলাকার মসজিদে দূর্যোগের পূর্বাভাস প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

৭) দূর্যোগের সময়ে জনসাধারণকে পরামর্শ প্রদান ও সেবা প্রদান পদধতির আওতায় আনতে হবে।

প্রতিনিয়ত আমরা এই সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছি বিশ্বজুড়ে। তাই আমাদের প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলার জন্য পূর্ব প্রস্তুতি নিতে হবে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। সর্বোপরি দুর্যোগের সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে হবে।

আসমা আক্তার শান্তা-এর আরও প্রবন্ধ পড়ুন

* স্বাস্থ্য ভালো রাখা বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

* বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে খেলাধুলার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

* বাঙ্গালীর সংস্কৃতির অংশ হিসেবে সামাজিক উৎসব সমূহ

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আরও প্রবন্ধ পড়ুন



বিজ্ঞাপন



© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত LearnArticle.com