খৈয়াছড়া ঝর্না এক অনিন্দ্য সৌন্দর্যের অাধার

জিকু দাশ
প্রকাশকাল (২২ আগস্ট ২০১৭)

f
g+
t

খৈয়াছড়া বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝরনাগুলোর একটি, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়ায় যার জন্ম। তার অাগুনঝরা রুপমাধুরীর কারণে সম্প্রতি বাংলাদেশের পর্যটকদের বহুল পরিচিত এবং অালোচিত একটি নাম খৈয়াছড়া। কিন্তু খৈয়াছড়া জয় করতে অাপনার থাকতে হবে অপরিসীম ধৈর্য ও মনোবল। কারণ খাড়া এই পাহাড় বেয়ে এর সৈান্দর্যের সবটা দেখার চেষ্টা করা বেশ কঠিনই বলতে হবে। এই ট্রেইলের খরচ অন্যান্য সব ট্রেইলের চেয়ে অনেক কমই বলতে হবে। তাই অার দেরি না করে বেড়িয়ে পড়ুন খৈয়াছড়া দেখতে।

খৈয়াছড়া ঝর্না এক অনিন্দ্য সৌন্দর্যের অাধার

ছবি জিকু দাশ

বাংলাদেশের সকল বিভাগের, জেলার, পৌরসভার এবং উপজেলার তথ্য

রংপুর বিভাগের সকল জেলার বিখ্যাত ও জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান সমূহ

উপযুক্ত সময়

যেহেতু এটি একটি ঝরণা তাই স্বাভাবিকভাবেই খৈয়াছড়া ভ্রমণের উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল। কিন্তু এই সময়েই খৈয়াছড়া ভ্রমণ সবচেয়ে বিপদজনক হয়। তাই অবশ্যই সতর্ক থাকবেন।

পথনির্দেশ

চট্টগ্রামের একেখান থেকে সরাসরি বাস পাওয়া যায় বড়তাকিয়া পর্যন্ত।অার যারা চট্টগ্রামের বাইরে থেকে অাসবেন তারা সিতাকুন্ড গেটওয়ে পেরিয়ে নামবেন বড়তাকিয়া বাজারের একটু অাগে হাতের বাম পাশে খৈয়াছড়া লেখা সাইনবোর্ড দেখে। এরপর সামনের ছোট রাস্তাটা দিয়ে একটু সামনে গেলেই সিএনজি পেয়ে যাবেন। জনপ্রতি ২০ টাকা দিয়ে চলে যেতে পারবেন অনেকটা ভিতরে। এরপর থেকেই মূলত শুরু এডভেঞ্চারের। সামনের ছোট সাঁকোটি পেরিয়ে সোজা পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে ঢুকে যাবেন মূল ঝরণায়।খাবারের অর্ডার দিয়ে যেতে পারবেন এখান থেকে। দাম তুলনামূলক অনেক কম অার খাবারের মান যথেষ্ট ভাল।

যা দেখবেন

মূল ঝরণার অনেকটা অাগে থেকেই এর সৌন্দর্যের স্বাদ নিতে নিতে যাবেন ভেতরের দিকে। মূল ঝরণার নিচের ধাপটাও অনেক সুন্দর। এরপর থেকেই মূলত চ্যালেন্জের শুরু। দড়ি বেয়ে উঠবেন উপরের দিকে তবে খুব সাবধানে । বর্ষাকালে এই পথগুলো ভয়ংকর রকমের পিচ্ছিল হয়ে যায়।এরপর সাবধানে উপরের দিকে উঠতে দেখবেন একটা ধাপে সবাই গোসল করছে। সেখানে গোসল সেরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে পারেন।

তারপর অাবার শুরু করতে হবে হাঁটা। তবে এই হাঁটা হবে নিজেকে ফিরে পাওয়ার হাঁটা কারণ সম্পূর্নরূপে শহুরে গন্ধ ত্যাগ করে নিখাঁদ সৌন্দর্যের সন্ধান পাবেন এই পথে চলতে চলতে। এর মাঝে ছবি তোলা অার ভিডিও করা তো থাকবেই তবে ভুলেও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ছবি বা ভিডিও করতে যাবেন না।

এই পথ দিয়ে সামনে চলতে চলতে দেখবেন একটি খাঁড়া পাহাড়ের নিচে এসে পৌঁছেছেন।এবার এই খাঁড়া পাহাড় জয় করতে পারলেই জয় হয়ে যাবে খৈয়াছড়া।তবে খেয়াল রাখবেন এখান থেকে পা পিছলে নিচে পড়লে ভয়ংকর বিপদ ঘটতে পারে এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

খৈয়াছড়া ঝর্না এক অনিন্দ্য সৌন্দর্যের অাধার

ছবি জিকু দাশ

খাওয়াদাওয়া

সিএনজি থেকে নেমে ভিতরের দিকে যাওয়ার সময় অনেক দোকান রয়েছে খাবারের এবং খাবারের মানও যথেষ্ট ভাল। অার বড় হোটেলে খেতে চাইলে চলে যেতে হবে বড়তাকিয়া বাজার বা অারও সামনে।

কোথায় থাকবেন

খৈয়ছড়া ভ্রমণের জন্য একদিনই যথেষ্ট যদি সকাল সকাল ঝরণায় উপস্থিত থাকতে পারেন। অার খুব দরকার হলে অাপনাকে মিরসরাই বা সিতাকুন্ড যেতে হবে হোটেলের খোঁজে।

যা নেওয়া জরুরি :


১) শুকনা খাবারঃ বিস্কিট, কেক, চকলেট, ফল ইত্যাদি
২) জোঁক ছাড়ানোর জন্য গুল/লবন
৩) পড়ার জন্য এবং গোসলের জন্য প্রয়োজনীয় কাপড়
৪) ভেজা কাপড় আনার জন্য পলিথিন ব্যাগ
৫) দড়ি
৬) এই ট্রেইলে জুতা ছাড়া হাঁটলে অনেক সুবিধা পাবেন

সতর্কতা :

ভুলেও এই ট্রেইলে দৌঁড়ঝাঁপ করবেন না। জোঁক থেকে বাঁচার জন্য সাথে গুল/লবণ রাখবেন।জোঁক যদি কামড়ায় তাহলে হাতে না টেনে লবণ বা গুল ছিটিয়ে দিবেন।

অপচনশীল কোন কিছু পর্যটনস্থানে ফেলে অাসবেন না। কারণ অাপনি অাজ যে নৈসর্গ অবলোকন করেছেন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সেই সমান অবলোকন নিশ্চিত করা অাপনার নাগরিক দায়িত্ব।

জিকু দাশ-এর আরও প্রবন্ধ পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আরও প্রবন্ধ পড়ুন



বিজ্ঞাপন



© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত LearnArticle.com